Prev | Up | Next

দ্বিতীয় খণ্ড - দশম অধ্যায়: ভৈরবী-ব্রাহ্মণী-সমাগম

ভৈরবীর দেবমণ্ডলের ঘাটে অবস্থানের কারণ

ছয়-সাত দিন ঐরূপে কাটিবার পরে ঠাকুরের মনে হইল ব্রাহ্মণীকে এখানে রাখা ভাল হইতেছে না। কামকাঞ্চনাসক্ত সংসারী মানব বুঝিতে না পারিয়া পবিত্রা রমণীর চরিত্র সম্বন্ধে নানা কথা রটনার অবসর পাইবে। ব্রাহ্মণীকে উহা বলিবামাত্র তিনি ঐ বিষয়ের যাথার্থ্য অনুধাবন করিলেন এবং গ্রামমধ্যে নিকটে কোন স্থানে থাকিয়া, প্রতিদিন দিবসে কিছুকালের জন্য আসিয়া ঠাকুরের সহিত দেখা করিয়া যাইবার সঙ্কল্প স্থিরপূর্বক কালীবাটী পরিত্যাগ করিলেন।

কালীবাটীর উত্তরে ভাগীরথীতীরে দক্ষিণেশ্বর-গ্রামস্থ দেবমণ্ডলের ঘাটে আসিয়া ব্রাহ্মণী বাস করিতে লাগিলেন1 এবং গ্রামমধ্যে পরিভ্রমণপূর্বক রমণীগণের সহিত আলাপ করিয়া স্বল্পদিনেই তাহাদিগের শ্রদ্ধার পাত্রী হইয়া উঠিলেন। সুতরাং এখানে তাঁহার বাস ও ভিক্ষা সম্বন্ধে কোনরূপ অসুবিধা রহিল না এবং লোকনিন্দার ভয়ে ঠাকুরের পবিত্র দর্শনলাভে তাঁহাকে একদিনের জন্যও বঞ্চিত হইতে হইল না। তিনি প্রতিদিন কিয়ৎকালের জন্য কালীবাটীতে আসিয়া ঠাকুরের সহিত কথাবার্তায় কাল কাটাইতে লাগিলেন এবং গ্রামস্থ রমণীগণের নিকট হইতে নানাপ্রকার খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহপূর্বক মধ্যে মধ্যে তাঁহাকে ভোজন করাইতে লাগিলেন।2


1. হৃদয় বলিত, দেবমণ্ডলের ঘাটে থাকিবার পরামর্শ ঠাকুরই ব্রাহ্মণীকে প্রদানপূর্বক মণ্ডলদের বাটীতে পাঠাইয়া দেন। তথায় যাইবামাত্র ৺নবীনচন্দ্র নিয়োগীর ধর্মপরায়ণা পত্নী তাঁহাকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং ঘাটের চাঁদনিতে যতকাল ইচ্ছা থাকিবার অনুমতিসহ একখানি তক্তপোশ, চাল, ডাল, ঘি ও অন্যান্য ভোজনসামগ্রী প্রদান করিয়াছিলেন।

2. গুরুভাব - পূর্বার্ধ, ৮ম অধ্যায়।

Prev | Up | Next


Go to top