Prev | Up | Next

তৃতীয় খণ্ড - তৃতীয় অধ্যায়: শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের গুরুভাব

ঐ বিষয়ে ঠাকুরের কয়েকটি দৃষ্টান্ত। যথা - গানের অনুলোম-বিলোম; বেল, থোড়, প্যাঁজের খোলা

"যেমন গানের অনুলোম-বিলোম - সা ঋ গা মা পা ধা নি সা করিয়া সুর তুলিয়া আবার সা নি ধা পা মা গা ঋ সা - করিয়া সুর নামানো। সমাধিতে অদ্বৈত-বোধটা অনুভব করিয়া আবার নিচে নামিয়া 'আমি'-বোধটা লইয়া থাকা।

"যেমন বেলটা হাতে লইয়া বিচার করা যে, খোলা, বিচি, শাঁস - ইহার কোনটা বেল। প্রথম খোলাটাকে অসার বলিয়া ফেলিয়া দিলাম, বিচিগুলোকেও ঐরূপ করিলাম; আর শাঁসটুকু আলাদা করিয়া বলিলাম, এইটিই বেলের সার - এইটিই আদত বেল। তারপর আবার বিচার আসিল যে, যাহারই শাঁস তাহারই খোলা ও বিচি - খোলা, বিচি ও শাঁস সব একত্র করিয়াই বেলটা; সেই রকম নিত্য ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করিয়া তারপর বিচার - যে নিত্য সেই লীলায় জগৎ!

"যেমন থোড়খানার খোলা ছাড়াতে ছাড়াতে মাঝটায় পৌঁছুলুম আর সেটাকেই সার ভাবলুম। তারপর বিচার এল - খোলেরই মাঝ, মাঝেরই খোল - দুই জড়িয়েই থোড়টা।

"যেমন প্যাঁজটা খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে আর কিছুই থাকে না, সেই রকম কোনটা 'আমি' বিচার করে দেখতে গিয়ে শরীরটা নয়, মনটা নয়, বুদ্ধিটা নয় করে ছাড়াতে ছাড়াতে গিয়ে দেখা যায়, 'আমি' বলে একটা আলাদা কিছুই নাই - সবই 'তিনি' 'তিনি' 'তিনি' (ঈশ্বর); যেমন গঙ্গার খানিকটা জল বেড়া দিয়ে ঘিরে বলা - এটা আমার গঙ্গা!"

যাক্, এখন ও-সকল কথা, আমরা পূর্বকথার অনুসরণ করি।

Prev | Up | Next


Go to top