চতুর্থ খণ্ড - দ্বিতীয় অধ্যায়: গুরুভাব ও নানা সাধু সম্প্রদায়
ঠাকুরের সাধুদের সহিত মিলন কিরূপে হয়
অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে।
ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ॥
- গীতা, ১০।৮
তেষামেবানুকম্পার্থমহমজ্ঞানজং তমঃ।
নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা॥
- গীতা, ১০।১১
ঠাকুর এক সময়ে আমাদের বলিয়াছিলেন, "কেশব সেনের আসবার পর থেকে তোদের মতো 'ইয়ং বেঙ্গল'-এর (Young Bengal) দলই সব এখানে (আমার নিকটে) আসতে শুরু করেছে। আগে আগে এখানে কত যে সাধু-সন্ত, ত্যাগী-সন্ন্যাসী, বৈরাগী বাবাজী সব আসত যেত, তা তোরা কি জানবি? রেল হবার পর থেকে তারা সব আর এদিকে আসে না। নইলে রেল হবার আগে যত সাধুরা সব গঙ্গার ধার দিয়ে হাঁটা পথ ধরে সাগরে চান (স্নান) করতে ও ৺জগন্নাথ দেখতে আসত। রাসমণির বাগানে ডেরা-ডাণ্ডা ফেলে অন্ততঃ দু-চার দিন থাকা, বিশ্রাম করা, তারা সকলে করতই করত। কেউ কেউ আবার কিছুকাল থেকেই যেত। কেন জানিস? সাধুরা 'দিশা-জঙ্গল' ও 'অন্ন-পানি'র সুবিধা না দেখে কোথাও আড্ডা করে না। 'দিশা-জঙ্গল' কি না - শৌচাদির জন্য সুবিধাজনক নিরেলা জায়গা। আর, 'অন্ন-পানি' কি না - ভিক্ষা। ভিক্ষান্নেই তো সাধুদের শরীর ধারণ - সেজন্য যেখানে সহজে ভিক্ষা পাওয়া যায়, তারই নিকটে সাধুরা 'আসন' অর্থাৎ থাকিবার স্থান ঠিক করে।"