Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - দ্বিতীয় অধ্যায়: গুরুভাব ও নানা সাধু সম্প্রদায়

রামাইত সাধুদের ভজন-সঙ্গীত ও দোঁহাবলী

এইরূপে কত সাধুর কথাই না ঠাকুর আমাদিগের নিকট বলিতেন; আবার কখনও কখনও ঐ সকল রামাইৎ বাবাজীদের নিকট যে সকল ভগবানের ভজন শিখিয়াছিলেন, তাহা গাহিয়া আমাদের শুনাইতেন। যথা -

(মেরা) রামকো না চিনা হ্যায়, দিল্, চিনা হ্যায় তুম্ ক্যারে;
আওর্ জানা হ্যায় তুম্ ক্যারে।
সন্ত্ ওহি যো, রাম-রস চাখে
আওর্ বিষয়-রস চাখা হ্যায় সো ক্যারে॥
পুত্র ওহি যো, কুলকো তারে
আওর্ যো সব পুত্র হ্যায় সো ক্যারে॥

অথবা -

সীতাপতি রামচন্দ্র,        রঘুপতি রঘুরাঈ।
ভজলে অযোধ্যানাথ,        দুসরা ন কোঈ॥
হসন বোলন চতুর চাল,        অয়ন বয়ান দৃগ্-বিশাল।
ভ্রূকুটি কুটিল তিলক ভাল,        নাসিকা শোভাঈ॥
কেশরকো তিলক ভাল,        মানো রবি প্রাতঃকাল।
শ্রবণ-কুণ্ডল-ঝলমলাত,        রতিপতি-ছবি-ছাঈ॥
মোতিনকো কণ্ঠমাল,        তারাগণ উর বিশাল।
মানো গিরি শিখর ফোড়ি,        সুরসরি বহিরাঈ॥
বিহরে রঘুবংশবীর,        সখা সহিত সরযূতীর।
তুলসীদাস হরষ নিরখি,        চরণরজ পাঈ॥

অথবা গাহিতেন -

'রাম ভজা সেই জিয়ারে জগমে,
রাম ভজা সেই জিয়ারে॥'

অথবা -

'মেরা রাম বিনা কোহি নাহিরে তারণ-ওয়ালা!'

- এই মধুর গীত দুইটির অপর চরণসকল আমরা ভুলিয়া গিয়াছি।

কখনও বা আবার ঠাকুর ঐ সকল সাধুদিগের নিকট যে-সকল দোঁহা শিখিয়াছিলেন, তাহাই আমাদের শুনাইতেন। বলিতেন, "সাধুরা চুরি, নারী ও মিথ্যা এই তিনের হাত থেকে সর্বদা আপনাকে বাঁচাতে উপদেশ করে।" বলিয়াই আবার বলিতেন, "এই তুলসীদাসের দোঁহায় সব কি বলছে শোন্ -

সত্যবচন অধীনতা পরধন-উদাস।
ইস্সে না হরি মিলে তো জামিন্ তুলসীদাস॥
সত্যবচন অধীনতা পরস্ত্রী মাতৃ সমান।
ইস্সে না হরি মিলে, তুলসী ঝুট্ জবান্॥

"অধীনতা কি জানিস - দীনভাব। ঠিক ঠিক দীনভাব এলে অহঙ্কারের নাশ হয় ও ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। কবীরদাসের গানেও ঐ কথা আছে -

সেবা বন্দি আওর্ অধীনতা, সহজ মিলি রঘুরাঈ।
হরিষে লাগি রহোরে ভাই॥"

ইত্যাদি।

Prev | Up | Next


Go to top