Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - তৃতীয় অধ্যায়: গুরুভাবে তীর্থভ্রমণ ও সাধুসঙ্গ

ঠাকুরের তপস্যাকালে ভারতে ধর্মান্দোলন

অনুরাগের তীব্র প্রেরণায় ঠাকুর যখন ঈশ্বরলাভের জন্য দ্বাদশ বর্ষব্যাপী কঠোর তপস্যায় লাগিয়াছিলেন এবং তাহাতে গুরুভাবের অদৃষ্টপূর্ব বিকাশ হইতেছিল, তখন উত্তর ভারতবর্ষের অনেক স্থলেই ধর্মের একটা বিশেষ আন্দোলন যে চলিয়াছিল এ কথার উল্লেখ আমরা লীলাপ্রসঙ্গের অন্য স্থলে করিয়াছি।1 কলিকাতা ও তন্নিকটবর্তী নানাস্থানের হরিসভাসকল এবং ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলন, উত্তর-পশ্চিম ও পঞ্জাব অঞ্চলে শ্রীযুত দয়ানন্দ স্বামীজীর বেদধর্মের আন্দোলন - যাহা এখন আর্যসমাজে পরিণত হইয়াছে, বাংলায় বিশুদ্ধ বৈদান্তিক ভাবের, কর্তাভজা সম্প্রদায়ের ও রাধাস্বামী মতের, গুজরাতে নারায়ণ স্বামী মতের2 - এইরূপে নানা স্থলে নানা ধর্মমতের উৎপত্তি ও আন্দোলন এই সময়েরই কিছু অগ্র-পশ্চাৎ উপস্থিত হইয়াছিল। ঐ আন্দোলনের সবিস্তার আলোচনা এখানে আমাদের উদ্দেশ্য নয়; কেবল কলিকাতার কলুটোলা নামক পল্লীতে প্রতিষ্ঠিত ঐরূপ একটি হরিসভায় ঠাকুরকে লইয়া যে ঘটনা হইয়াছিল তাহাই এখানে আমরা পাঠককে বলিব।


1. পঞ্চম অধ্যায় দেখ।

2. বর্তমানে "স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়" নামে পরিচিত। অপর নাম "উদ্ধব সম্প্রদায়"। ইঁহাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ "শিক্ষাপত্রী", "স্বামিনি বাতোঁ" ও "বচনামৃত"। প্রধান কেন্দ্র গুজরাতের আহমেদাবাদ ও বড়তাল নগরীদ্বয়। ইঁহারা শ্রীরামানুজাচার্য-প্রবর্তিত বিশিষ্টাদ্বৈতমতের সন্ন্যাসী ও শ্রীরামানুজাচার্য-আশীর্বাদধন্য। - ২১ অক্টোবর ২০১৮, সঙ্কলক।

Prev | Up | Next


Go to top