Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - চতুর্থ অধ্যায়: গুরুভাব-সম্বন্ধে শেষ কথা

সাংখ্য-দর্শন সহজে বুঝান - "বে-বাড়ির কর্তা-গিন্নী"

ধর, জটিল সাংখ্যদর্শনের কথা চলিয়াছে। ঠাকুর আমাদিগকে পুরুষ ও প্রকৃতি হইতে জগতের উৎপত্তির কথা বলিতে বলিতে বলিলেন, "ওতে বলে - পুরুষ অকর্তা, কিছু করেন না। প্রকৃতিই সকল কাজ করেন; পুরুষ প্রকৃতির ঐসকল কাজ সাক্ষিস্বরূপ হয়ে দেখেন, প্রকৃতিও আবার পুরুষকে ছেড়ে আপনি কোন কাজ করতে পারেন না।" শ্রোতারা তো সকলেই পণ্ডিত - অফিসের চাকুরে বাবু বা মুচ্ছুদ্দী, না হয় বড় জোর ডাক্তার, উকিল বা ডেপুটি, আর স্কুল-কলেজের ছোঁড়া; কাজেই ঠাকুরের কথাগুলি শুনিয়া সকলে মুখ চাওয়াচাওয়ি করিতেছে। ভাবগতিক দেখিয়া ঠাকুর বলিলেন, "ওই যে গো দেখনি, বে-বাড়িতে? কর্তা হুকুম দিয়ে নিজে বসে বসে আলবোলায় তামাক টানছে। গিন্নি কিন্তু কাপড়ে হলুদ মেখে একবার এখানে, একবার ওখানে বাড়িময় ছুটাছুটি করে এ কাজটা হলো কি না, ও কাজটা করলে কি না সব দেখচেন, শুনচেন, বাড়িতে যত মেয়েছেলে আসছে তাদের আদর অভ্যর্থনা করচেন আর মাঝে মাঝে কর্তার কাছে এসে হাতমুখ নেড়ে শুনিয়ে যাচ্চেন - 'এটা এইরকম করা হলো, ওটা এইরকম হলো, এটা করতে হবে, ওটা করা হবে না' ইত্যাদি। কর্তা তামাক টানতে টানতে সব শুনচেন আর 'হুঁ' 'হুঁ' করে ঘাড় নেড়ে সব কথায় সায় দিচ্চেন! সেইরকম আর কি।" ঠাকুরের কথা শুনিয়া সকলে হাসিতে লাগিল এবং সাংখ্য-দর্শনের কথাও বুঝিতে পারিল!

Prev | Up | Next


Go to top