Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - চতুর্থ অধ্যায়: গুরুভাব-সম্বন্ধে শেষ কথা

ঠাকুরের প্রকৃতিগত অসাধারণ পরিবর্তনসকল দেখিতে পাইয়া ধারণা - ঈশ্বর আইন বা নিয়ম বদলাইয়া থাকেন

ঐসকল দৃষ্টান্ত হইতেই বেশ বুঝা যায়, সাধারণ ভাবভূমিতে ঠাকুর যখন থাকিতেন তখন তাঁহার তীক্ষ্ণদৃষ্টির সম্মুখে কোনও পদার্থের কোনপ্রকার ভাবই লুক্কায়িত থাকিতে পারিত না। মানব-প্রকৃতির তো কথাই নাই, বাহ্য-প্রকৃতির অন্তর্গত যত কিছু পরিবর্তনও তাঁহার দৃষ্টিসম্মুখে আপন রূপ অপ্রকাশিত রাখিতে পারিত না। অবশ্য যন্ত্রাদিসহায়ে বাহ্য-প্রকৃতির যেসকল পরিবর্তন ধরা বুঝা যায়, আমরা সেসকলের কথা এখানে বলিতেছি না। আর এক আশ্চর্যের বিষয়, সাধারণ ভাবভূমিতে থাকিবার কালে বাহ্য-প্রকৃতির অন্তর্গত পদার্থনিচয়ের যেসকল অসাধারণ পরিবর্তন বা বিকাশ লোকনয়নে সচরাচর পতিত হয় না, সেইগুলিই যেন অগ্রে ঠাকুরের নয়নের গোচরীভূত হইত! ঈশ্বরেচ্ছাতেই সৃষ্ট্যন্তর্গত সকল পদার্থের সকলপ্রকার বিকাশ আসিয়া উপস্থিত হয়, অথবা তিনিই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে জগদন্তর্গত বস্তু ও ব্যক্তিসকলের ভাগ্যচক্রের নিয়ামক - এই ভাবটি ঠাকুরের প্রাণে প্রাণে প্রবিষ্ট করাইয়া দিবার জন্যই যেন জগদম্বা ঠাকুরের সম্মুখে সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত ঐ অসাধারণ প্রাকৃতিক বিকাশগুলি (exceptions) যখন তখন আনিয়া ধরিতেন! "যাঁহার আইন (Law) অথবা যিনি আইন করিয়াছেন, তিনি ইচ্ছা করিলে যে আইন পালটাইয়া আবার অন্যরূপ আইন করিতে পারেন" - ঠাকুরের ঐ কথাগুলির অর্থ আমরা তাঁহার বাল্যাবধি ঐরূপ দর্শন হইতেই স্পষ্ট পাইয়া থাকি। দৃষ্টান্তস্বরূপ ঐ বিষয়ের কয়েকটি ঘটনা এখানে বলিলে মন্দ হইবে না।

Prev | Up | Next


Go to top