চতুর্থ খণ্ড - চতুর্থ অধ্যায়: গুরুভাব-সম্বন্ধে শেষ কথা
'চেষ্টা করলেই যার যা ইচ্ছা হ'তে পারে না'
স্বামীজী ঐরূপে অনেকগুলি বন্ধুবান্ধবকেই তখন ঠাকুরের নিকট লইয়া গিয়াছিলেন; কিন্তু ঠাকুরের দিব্যদৃষ্টি যে তাহাদের অন্তর দেখিয়া অন্যরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছিল, এ কথা আমরা ঠাকুর ও স্বামীজী উভয়েরই মুখে সময়ে সময়ে শুনিয়াছি। স্বামীজী বলিতেন, "ঠাকুর আমাকে গ্রহণ করিয়া ধর্মসম্বন্ধীয় শিক্ষাদিদানে আমার উপর যেরূপ কৃপা করিতেন, সেইরূপ কৃপা তাহাদিগকে না করায় আমি তাঁহাকে ঐরূপ করিবার জন্য পীড়াপীড়ি করিয়া ধরিয়া বসিতাম। বালস্বভাববশতঃ অনেক সময় তাঁহার সহিত কোমর বাঁধিয়া তর্ক করিতেও উদ্যত হইতাম! বলিতাম, 'কেন মহাশয়, ঈশ্বর তো আর পক্ষপাতী নন যে, একজনকে কৃপা করবেন এবং আর একজনকে কৃপা করবেন না? তবে কেন আপনি উহাদের আমার ন্যায় গ্রহণ করবেন না? ইচ্ছা ও চেষ্টা করলে সকলেই যেমন বিদ্বান পণ্ডিত হতে পারে, ধর্মলাভ ঈশ্বরলাভও যে তেমনি করতে পারে, এ কথা তো নিশ্চয়।' তাহাতে ঠাকুর বলিতেন, 'কি করব রে - আমাকে মা যে দেখিয়ে দিচ্চে, ওদের ভেতর ষাঁড়ের মতো পশুভাব রয়েছে, ওদের এ জন্মে ধর্মলাভ হবে না - তা আমি কি করব? তোর ও কি কথা? ইচ্ছা ও চেষ্টা করলেই কি লোকে এ জন্মে যা ইচ্ছা তাই হতে পারে?' ঠাকুরের ও কথা তখন শোনে কে? আমি বলিতাম, 'সে কি মশায়, ইচ্ছা ও চেষ্টা করলে যার যা ইচ্ছা তা হতে পারে না? নিশ্চয়ই পারে। আমি আপনার ও কথায় বিশ্বাস করতে পারছি না।' ঠাকুরের তাহাতেও ঐ কথা - 'তুই বিশ্বাস করিস আর নাই করিস, মা যে আমায় দেখিয়ে দিচ্চে!' আমিও তখন তাঁর কথা কিছুতেই স্বীকার করতুম না। তার পর যত দিন যেতে লাগল, দেখে-শুনে তত বুঝতে লাগলুম - ঠাকুর যা বলেছেন তাই সত্য, আমার ধারণাই মিথ্যা।"