Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - চতুর্থ অধ্যায়: গুরুভাব-সম্বন্ধে শেষ কথা

অবতারমহাপুরুষগণের ভিতরে সকল সময় সকল শক্তি প্রকাশিত থাকে না। ঐ বিষয়ে প্রমাণ

ভক্তিমান শ্রোতা হয়তো আমাদের ঐ কথায় কুটিল কটাক্ষ করিয়া বলিবেন - তোমাদের ও-সকল কি প্রকার কথা? ঠাকুরকে যদি ঈশ্বরাবতার বলিয়াই নির্দেশ কর, তবে তাঁহার ঐ ভাব বা শক্তিপ্রকাশ যে কখনও ছিল না, এ কথা আর বলিতে পার না। ঐ কথার উত্তরে আমরা বলি - ভ্রাতঃ, ঠাকুরের কথা-প্রমাণেই আমরা ঐরূপ বলিতেছি। নরদেহ ধারণ করিয়া ঈশ্বরাবতারদিগেরও সকল প্রকার ঈশ্বরীয় ভাব ও শক্তিপ্রকাশ সর্বদা থাকে না; যখন যেটির আবশ্যক হয়, তখনই সেটি আসিয়া উপস্থিত হয়। কাশীপুরের বাগানে বহুকাল ব্যাধির সহিত সংগ্রামে ঠাকুরের শরীর যখন অস্থিচর্মসার হইয়া দাঁড়াইয়াছিল, তখন তাঁহার অন্তরের ভাব ও শক্তির প্রকাশ লক্ষ্য করিয়া ঠাকুর একদিন আমাদিগকে বলিয়াছিলেন:

"মা দেখিয়ে দিচ্ছে কি যে, (নিজের শরীর দেখাইয়া) এর ভিতর এখন এমন একটা শক্তি এসেছে যে, এখন আর কাহাকেও ছুঁয়ে দিতেও হবে না; তোদের বলব ছুঁয়ে দিতে, তোরা দিবি, তাতেই অপরের চৈতন্য হয়ে যাবে! মা যদি এবার (শরীর দেখাইয়া) এটা আরাম করে দেন তো দরজায় লোকের ভিড় ঠেলে রাখতে পারবি না - এত সব লোক আসবে। এত খাটতে হবে যে, ঔষধ খেয়ে গায়ের ব্যথা সারাতে হবে!"

ঠাকুরের ঐ কথাগুলিতেই বুঝা যায়, ঠাকুর স্বয়ং বলিতেছেন যে, যে শক্তিপ্রকাশ তাঁহাতে পূর্বে কখনও অনুভব করেন নাই তাহাই তখন ভিতরে অনুভব করিতেছিলেন। এইরূপ আরও অনেক দৃষ্টান্ত এ বিষয়ে দেওয়া যাইতে পারে।

Prev | Up | Next


Go to top