Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - পঞ্চম অধ্যায়: ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের নবযাত্রা

নৌকায় যাইতে যাইতে স্ত্রী-ভক্তের প্রশ্নে ঠাকুরের উত্তর - "ঝড়ের আগে এঁটো পাতার মত হয়ে থাকবে"

যাইতে যাইতে স্ত্রী-ভক্তটি ঠাকুরকে বলিতে লাগিলেন, "ইচ্ছা হয় খুব তাঁকে ডাকি, তাঁতে ষোল আনা মন দি, কিন্তু মন কিছুতেই বাগ মানে না - কি করি?"

ঠাকুর - তাঁর উপর ভার দিয়ে থাক না গো! ঝড়ের এঁটো পাতা হয়ে থাকতে হয় - সেটা কি জান? পাতাখানা পড়ে আছে; য্যাম্নে হাওয়াতে নিয়ে যাচ্চে ত্যাম্নে উড়ে যাচ্চে, সেই রকম; এই রকম করে তাঁর উপর ভার দিয়ে পড়ে থাকতে হয় - চৈতন্যবায়ু য্যাম্নে মনকে ফেরাবে, ত্যাম্নে ফিরবে, এই আর কি।

এইরূপ প্রসঙ্গ চলিতে চলিতে নৌকা কালীবাটীর ঘাটে আসিয়া লাগিল। নৌকা হইতে নামিয়াই ঠাকুর কালীঘরে1 যাইলেন। স্ত্রী-ভক্তেরা কালীবাটীর উত্তরে অবস্থিত নহবতখানায়2 শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরানীর নিকটে যাইলেন এবং তাঁহাকে প্রণাম করিয়া মা কালীকে প্রণাম করিতে মন্দিরাভিমুখে চলিলেন।


1. মা কালীর মন্দিরকে ঠাকুর 'কালীঘর' ও রাধাগোবিন্দজীর মন্দিরকে 'বিষ্ণুঘর' বলিতেন।

2. এই নহবতখানার নিম্নের ঘরে শ্রীশ্রীমা শয়ন করিতেন এবং সকল প্রকার দ্রব্যাদি রাখিতেন। নিম্নের ঘরের সম্মুখের রকে রন্ধনাদি হইত। উপরের ঘরে দিনের বেলায় কখনও কখনও উঠিতেন এবং কলিকাতা হইতে আগতা স্ত্রী-ভক্তদিগের সংখ্যা অধিক হইলে শয়ন করিতে দিতেন।

Prev | Up | Next


Go to top