চতুর্থ খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের পুনর্যাত্রা ও গোপালের মার শেষকথা
কামনা-করিয়া-দেওয়া জিনিস ঠাকুর গ্রহণ ও ভোজন করিতে পারিতেন না। ভক্তদেরও উহা খাইতে দিতেন না
শ্রীরামকৃষ্ণদেব কিন্তু তাহাদের দু-একজনের ছাড়া ঐসকল মাড়োয়ারীপ্রদত্ত জিনিসের কিছুই স্বয়ং গ্রহণ করিতেন না। বলিতেন, "ওরা যদি একখিলি পান দেয় তো তার সঙ্গে ষোলটা কামনা জুড়ে দেয় - 'আমার মকদ্দমায় জয় হোক, আমার রোগ ভাল হোক, আমার ব্যবসায়ে লাভ হোক' ইত্যাদি!" ঠাকুর নিজে তো ঐসকল জিনিস খাইতেনই না, আবার ভক্তদেরও ঐসকল খাবার খাইতে দিতেন না। তবে, ডাল রুটি ইত্যাদি রাঁধা খাবার, যাহা তাহারা ঠাকুর-দেবতাকে ভোগ দিয়া তাঁহাকে দিয়া যাইত, 'প্রসাদ' বলিয়া নিজেও তাহা কখনও একটু-আধটু গ্রহণ করিতেন এবং আমাদের সকলকেও খাইতে দিতেন। তাহাদের দেওয়া ঐসকল মিছরি, মেওয়া প্রভৃতি খাইবার অধিকারী ছিলেন একমাত্র নরেন্দ্রনাথ (স্বামী বিবেকানন্দজী)। ঠাকুর বলিতেন, "ওর (নরেন্দ্রের) কাছে জ্ঞান-অসি রয়েছে - খাপখোলা তরোয়াল, ওর ওসব খেলে কিছুই দোষ হবে না, বুদ্ধি মলিন হবে না।" তাই ঠাকুর ভক্তদের ভিতর যাহাকে পাইতেন তাহাকে দিয়া ঐসব খাবার নরেন্দ্রনাথের বাটীতে পাঠাইয়া দিতেন। যেদিন কাহাকেও পাইতেন না, সেদিন নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র মা কালীর ঘরের পূজারী রামলালকে দিয়াই পাঠাইয়া দিতেন। আমরা রামলালদাদার নিকট শুনিয়াছি, নিত্য নিত্য ঐরূপ লইয়া যাইতে পাছে রামলাল বিরক্ত হয় তাই একদিন মধ্যাহ্নভোজনের পর রামলালকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, "কিরে, তোর কলিকাতায় কোন দরকার নাই?"
রামলাল - আজ্ঞে, আমার কলিকাতায় আর কি দরকার! তবে আপনি বলেন তো যাই।