পঞ্চম খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ঠাকুরের পরীক্ষাপ্রণালী ও নরেন্দ্রনাথ
হস্তের ওজনের তারতম্যে সদসৎ বুদ্ধি-নির্ণয়
গলরোগে আক্রান্ত হইয়া ঠাকুর যখন কাশীপুরের বাগানে অবস্থান করিতেছিলেন সেই সময়ে লেখকের পরলোকগত কনিষ্ঠ সহোদর1 একদিন তাঁহাকে দর্শন করিতে তথায় উপস্থিত হইয়াছিল। ঠাকুর তাহাকে দেখিয়া সেদিন বিশেষ প্রসন্ন হইয়াছিলেন এবং নিকটে বসাইয়া তাহাকে নানা কথা জিজ্ঞাসাপূর্বক ধর্মবিষয়ক নানা উপদেশ প্রদান করিয়াছিলেন। ঐ সময়ে লেখক ঐ স্থানে উপস্থিত হইলে ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, "ছেলেটি তোর ভাই?" লেখক ঐ কথা স্বীকার করিলে আবার বলিয়াছিলেন, "বেশ ছেলে, তোর চেয়ে এর বুদ্ধি বেশি; দেখি সদ্বুদ্ধি কি অসদ্বুদ্ধি" - বলিয়াই তাহার দক্ষিণ হস্তের পূর্বোক্ত অংশ ধারণপূর্বক ওজন করিতে করিতে বলিলেন, "সদ্বুদ্ধি"। পরে লেখককে পুনরায় প্রশ্ন করিলেন, (কনিষ্ঠকে দেখাইয়া) "ইহাকেও টানব না কি রে? (ইহার মনকে সংসারের প্রতি উদাসীন করিয়া ঈশ্বরমুখী করিয়া দিব না কি) কি বলিস?" লেখক বলিয়াছিল, "বেশ তো মহাশয়, তাহাই করুন।" ঠাকুর তাহাতে ক্ষণকাল চিন্তাপূর্বক বলিলেন, "না - থাক; একটাকে নিয়েছি, আবার এটাকেও নিলে তোর বাপ-মার বড় কষ্ট হবে - বিশেষতঃ তোর মার; জীবনে অনেক শক্তিকে2 রুষ্টা করেছি, এখন আর কাজ নাই।" এই বলিয়া ঠাকুর তাহাকে সদুপদেশ প্রদান ও কিঞ্চিৎ জলযোগ করাইয়া সেদিন বিদায় করিয়াছিলেন।
1. শ্রীচারুচন্দ্র চক্রবর্তী।↩
2. জগদম্বার সৃজনী ও পালনী শক্তির মূর্তিমতী-স্বরূপা নারীগণকে।↩