পঞ্চম খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ঠাকুরের পরীক্ষাপ্রণালী ও নরেন্দ্রনাথ
ঐ বিষয়ক দৃষ্টান্তনিচয়
কয়েকদিন দক্ষিণেশ্বরে গমনাগমন করিবার পরে জনৈক বালককে তিনি একদিন সহসা বলিয়া বসিলেন, "তুই বিবাহ করিস না কেন?" সে উত্তর করিল, "মহাশয়, মন বশীভূত হয় নাই, এখন বিবাহ করিলে স্ত্রীর প্রতি আসক্তিতে হিতাহিত-বিবেচনাশূন্য হইতে হইবে, যদি কখনও কামজিৎ হইতে পারি তখন বিবাহ করিব।" ঠাকুর বুঝিলেন, অন্তরে আসক্তি প্রবল থাকিলেও বালকের মন নিবৃত্তিমার্গের প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছে - বুঝিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "যখন কামজিৎ হইবি তখন আর বিবাহ করিবার আবশ্যকতা থাকিবে না।"
জনৈক বালকের সহিত একদিন দক্ষিণেশ্বরে নানা বিষয়ের কথা কহিতে কহিতে বলিলেন, "এটা কি বল দেখি? কোমরে কিছুতেই (সর্বদা) কাপড় রাখতে পারি না - থাকে না, কখন খুলে পড়ে গেছে জানতেও পারি না! বুড়ো মিনসে উলঙ্গ হয়ে বেড়াই! কিন্তু লজ্জাও হয় না! পূর্বে পূর্বে কে দেখচে না দেখচে সে কথার এককালে হুঁশ থাকত না - এখন যারা দেখে তাদের কাহারও কাহারও লজ্জা হয় বুঝে কোলের উপর কাপড়খানা ফেলে রাখি। তুই লোকের সামনে আমার মতো (উলঙ্গ) হয়ে বেড়াতে পারিস?" সে বলিল, "মহাশয়, ঠিক বলিতে পারি না, আপনি আদেশ করিলে বস্ত্রত্যাগ করিতে পারি।" তিনি বলিলেন, "কই যা দেখি, মাথায় কাপড়খানা জড়িয়ে ঠাকুরবাড়ির উঠানে একবার ঘুরে আয় দেখি।" বালক বলিল, "তাহা করিতে পারিব না, কিন্তু কেবলমাত্র আপনার সম্মুখে ঐরূপ করিতে পারি।" ঠাকুর তাহার কথা শুনিয়া বলিলেন, "ঐ কথা আরও অনেকে বলে - বলে, 'তোমার সামনে পরিধানের কাপড় ফেলিয়া দিতে লজ্জা করে না, কিন্তু অপরের সামনে করে'!"