Prev | Up | Next

পঞ্চম খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ঠাকুরের পরীক্ষাপ্রণালী ও নরেন্দ্রনাথ

দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত - বৈকুণ্ঠনাথকে ঠাকুরের ঐ বিষয়ক প্রশ্ন ও তাহার উত্তর

আশ্রিত ভক্তগণকে পূর্বোক্তভাবে প্রশ্ন করা বিষয়ে আর একটি দৃষ্টান্তের আমরা এখানে উল্লেখ করিব। দক্ষিণেশ্বরে আগমনের স্বল্পকাল পরে আমাদিগের সুপরিচিত জনৈক ব্যক্তিকে ঠাকুর একদিবস নিজ গৃহস্থিত মহাপ্রভুর সঙ্কীর্তনের ছবিখানি দেখাইয়া বলিলেন, "সকলে কেমন ঈশ্বরীয় ভাবে বিভোর হয়েছে দেখছিস?"

ঐ ব্যক্তি - ওরা সব ছোট লোক, মহাশয়।

ঠাকুর - সে কিরে? ও কথা বলতে আছে!

ঐ ব্যক্তি - হাঁ মহাশয়, আমার নদীয়ায় বাড়ি, আমি জানি বষ্টুম ফষ্টুম ছোটলোকে হয়।

ঠাকুর - তোর নদীয়ায় বাড়ি, তবে তোকে আর একটা প্রণাম।1 আচ্ছা, রাম প্রভৃতি (আপনাকে দেখাইয়া) ইহাকে অবতার বলে, তোর কি মনে হয়, বল দেখি?

ঐ ব্যক্তি - তারা তো ভারী ছোট কথা বলে, মহাশয়!

ঠাকুর - সে কিরে? ভগবানের অবতার বলে, আর তুই বলচিস ছোট কথা বলে!

ঐ ব্যক্তি - হাঁ মহাশয়, অবতার তো তাঁর (ঈশ্বরের) অংশ, আমার আপনাকে সাক্ষাৎ শিব বলিয়া মনে হয়।

ঠাকুর - বলিস কিরে?

ঐ ব্যক্তি - ঐরূপ মনে হয়, তা কি করব বলুন? আপনি শিবের ধ্যান করিতে বলিয়াছেন, কিন্তু নিত্য চেষ্টা করিলেও উহা কিছুতেই পারি না! ধ্যান করিতে বসিলেই আপনার প্রসন্ন মুখখানি সম্মুখে জ্বলজ্বল করিতে থাকে, উহাকে সরাইয়া শিবকে কিছুতেই মনে আনিতে পারি না, ইচ্ছাও হয় না! সুতরাং আপনাকে শিব বলিয়া ভাবি।

ঠাকুর - (হাসিতে হাসিতে) বলিস কিরে! আমি কিন্তু জানি, আমি তোর একগাছি ছোট কেশের সমান (উভয়ের হাস্য)। যাহোক, তোর জন্য বড় ভাবনা ছিল, আজ নিশ্চিন্ত হইলাম।

শেষোক্ত কথাগুলি ঠাকুর কেন বলিলেন, তাহা ঐ ব্যক্তি তখন বুঝিয়াছিলেন কি না বলিতে পারি না। আমাদিগের জানা আছে, ঐরূপ স্থলে ঠাকুর প্রসন্ন হইয়াছেন - এই কথা বুঝিয়াই আমাদিগের প্রাণ পূর্ণ হইয়া উঠিত এবং তাঁহার ঐরূপ কথাসকল বুঝিবার প্রবৃত্তি থাকিত না! এখন বুঝিতে পারি, তাঁহাকে সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক আদর্শ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছে জানিয়াই ঠাকুর ঐ ব্যক্তিকে ঐ দিবস ঐ কথাগুলি বলিয়াছিলেন।


1. কাহারও সহিত সাক্ষাৎ হইবামাত্র তাহাকে প্রণাম করা ঠাকুরের রীতি ছিল। এই ব্যক্তিকে ইতঃপূর্বে ঐরূপ করিয়াছিলেন বলিয়া পুনরায় প্রণাম করিবার সময় তিনি এই কথা বলিয়াছিলেন।

Prev | Up | Next


Go to top