পঞ্চম খণ্ড - অষ্টম অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: সংসারে ও ঠাকুরের নিকটে নরেন্দ্রনাথের শিক্ষা
ঠাকুরের ঐ বিষয়ক আনন্দ সম্বন্ধে বৈকুণ্ঠনাথের কথা
"তারাপদ ঘোষ নামক এক ব্যক্তির সহিত এক আফিসে কর্ম করায় ইতঃপূর্বে পরিচিত হইয়াছিলাম। তারাপদের সহিত নরেন্দ্রনাথের বিশেষ বন্ধুতা ছিল। সেজন্য আফিসে তারাপদের নিকটে নরেন্দ্রকে ইতঃপূর্বে কখনও কখনও দেখিয়াছিলাম। তারাপদ একদিন কথায় কথায় বলিয়াও ছিল, পরমহংসদেব নরেনবাবুকে বিশেষ ভালবাসেন, তথাপি আমি নরেন্দ্রের সহিত পরিচিত হইবার চেষ্টা করি নাই। অদ্য মধ্যাহ্নে দক্ষিণেশ্বরে আসিয়া দেখিলাম, ঠাকুর একাকী গৃহে বসিয়া আছেন এবং নরেন্দ্র বাহিরে এক পার্শ্বে শয়ন করিয়া নিদ্রা যাইতেছেন। ঠাকুরের মুখ যেন আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া রহিয়াছে। নিকটে যাইয়া প্রণাম করিবামাত্র তিনি নরেন্দ্রনাথকে দেখাইয়া বলিলেন, 'ওরে দেখ, ঐ ছেলেটি বড় ভাল, ওর নাম নরেন্দ্র, আগে মাকে মানত না, কাল মেনেছে। কষ্টে পড়েছে, তাই মার কাছে টাকা-কড়ি চাইবার কথা বলে দিয়াছিলাম, তা কিন্তু চাইতে পারলে না - বলে, 'লজ্জা করলে!' মন্দির থেকে এসে আমাকে বললে মার গান শিখিয়ে দাও - 'মা ত্বং হি তারা' গানটি1 শিখিয়ে দিলাম। কাল সমস্ত রাত ঐ গানটা গেয়েছে! তাই এখন ঘুমুচ্ছে। (আহ্লাদে হাসিতে হাসিতে) নরেন্দ্র কালী মেনেছে, বেশ হয়েছে - না?' তাঁহার ঐ কথা লইয়া বালকের ন্যায় আনন্দ দেখিয়া বলিলাম, 'হ্যাঁ মহাশয়, বেশ হইয়াছে।' কিছুক্ষণ পরে পুনরায় হাসিতে হাসিতে বলিলেন, 'নরেন্দ্র মাকে মেনেছে! বেশ হয়েছে - কেমন?' ঐরূপে ঘুরাইয়া-ফিরাইয়া বারংবার ঐ কথা বলিয়া আনন্দ প্রকাশ করিতে লাগিলেন।"
1. (আমার) মা ত্বং হি তারা।
তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা।
তোরে জানি মা ও দীনদয়াময়ী,
তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা॥
তুমি জলে, তুমি স্থলে,
তুমিই আদ্যমূলে গো মা
আছ সর্বঘটে, অক্ষপুটে
সাকার আকার নিরাকারা।
তুমি সন্ধ্যা, তুমি গায়ত্রী,
তুমিই জগদ্ধাত্রী গো মা,
তুমি অকূলের ত্রাণকর্ত্রী
সদাশিবের মনোহরা॥↩