Prev | Up | Next

পঞ্চম খণ্ড - একাদশ অধ্যায়: ঠাকুরের কলিকাতায় আগমন

দক্ষিণেশ্বরে কত ধর্মপিপাসু উপস্থিত হইয়াছিল তাহা নির্ণয় করা দুঃসাধ্য

বাস্তবিক, ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দের শেষ ভাগে কলিকাতার জনসাধারণের মধ্যে ঠাকুরের লোকোত্তর ভাব, প্রেম, সমাধি ও অমৃতময়ী বাণীর কথা মুখে মুখে এতদূর প্রচারিত হইয়া পড়িয়াছিল যে, তাঁহার পুণ্যদর্শন লাভের আশায় নিত্যই দলে দলে লোক দক্ষিণেশ্বরে উপস্থিত হইতেছিল এবং যাহারা একবার আসিতেছিল তাহাদিগের মধ্যে অধিকাংশই মোহিত হইয়া তদবধি পুনঃপুনঃ আগমন করিতেছিল। কিন্তু ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দের জুলাই মাসে ঠাকুরের কণ্ঠপীড়া হইবার পূর্বে ঐরূপে কত লোক তাঁহার নিকটে উপস্থিত হইয়াছিল তাহার পরিমাণ হওয়া সুকঠিন। কারণ, এক স্থানে একই দিনে তাহাদিগের সকলের একত্র হইবার সুযোগ কখনও উপস্থিত হয় নাই। ঐরূপ সুযোগ উপস্থিত না হওয়ায় একপ্রকার ভালই হইয়াছিল, নতুবা আমার পূজ্য দেশপূজ্য হইতেছেন, আমার প্রিয়তমকে সকলে ভালবাসিতেছে ভাবিয়া ঠাকুরের অন্তরঙ্গগণ তাঁহার ভক্তসংখ্যার বৃদ্ধিতে এতদিন যে আনন্দ অনুভব করিতেছিলেন তাহা ঐ সংখ্যার বাহুল্যদর্শনে বহু পূর্বে বিষাদ ও ভীতিতে পরিণত হইত - কারণ, তাঁহার নিজমুখে তাঁহারা বারংবার শ্রবণ করিয়াছিলেন, "অধিক লোক যখন (আমাকে) দেবজ্ঞানে মানিবে, শ্রদ্ধা-ভক্তি করিবে, তখনই ইহার (শরীরের) অন্তর্ধান হইবে।"

Prev | Up | Next


Go to top