Prev | Up | Next

পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান

বলরামের পূর্বজীবন

আমরা ইতিপূর্বে একস্থলে বলিয়াছি, বলরামের ভিতরে দয়া ও ত্যাগবৈরাগ্যের ভাব বিশেষ প্রবল ছিল। জমিদারি প্রভৃতির তত্ত্বাবধানে অনেক সময় নির্মম হইয়া নানা হাঙ্গামা না করিলে চলে না দেখিয়া, তিনি নিজ বিষয়সম্পত্তির ভার নিমাইবাবুর উপরে সমর্পণপূর্বক তাঁহার নিকট হইতে প্রতি মাসে আয়স্বরূপে যাহা পাইতেন অনেক সময়ে উহা পর্যাপ্ত না হইলেও তাহাতেই কোনরূপে সংসারযাত্রা নির্বাহ করিতেন। তাঁহার শরীরও ঐসকল কর্ম করিবার উপযোগী ছিল না। যৌবনে অজীর্ণরোগে উহা একসময়ে এতদূর স্বাস্থ্যহীন হইয়াছিল যে, একাদিক্রমে দ্বাদশ বৎসর অন্ন ত্যাগপূর্বক তাঁহাকে যবের মণ্ড ও দুগ্ধ পান করিয়া কাটাইতে হইয়াছিল। ভগ্ন স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য তিনি ঐ সময়ের অনেক কাল পুরীধামে অতিবাহিত করিয়াছিলেন। শ্রীভগবানের নিত্য দর্শন, পূজা, জপ, ভাগবতাদি শাস্ত্র শ্রবণ এবং সাধুসঙ্গাদি কার্যেই তাঁহার তখন দিন কাটিত এবং ঐরূপে তিনি বৈষ্ণবসম্প্রদায়ের ভিতরে ভাল ও মন্দ যাহা কিছু ছিল সেই সকলের সহিত সুপরিচিত হইবার বিশেষ অবসর ঐ কালে প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। পরে কার্যানুরোধে কলিকাতায় আসিবার কিছুকাল পরেই ঠাকুরের দর্শন ও পূত সঙ্গে তাঁহার জীবন কিরূপে দিন দিন পরিবর্তিত হয়, তদ্বিষয়ের আভাস আমরা ইতিপূর্বে প্রদান করিয়াছি।

Prev | Up | Next


Go to top