পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - তৃতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
ভাবুকতা লইয়া নরেন্দ্রের ব্যঙ্গ-পরিহাস - দানা ও সখী
যুক্তিতর্ক অবলম্বনে ঐ বিষয় প্রচার করিয়াই নরেন্দ্র ক্ষান্ত হন নাই, কিন্তু কাহারও ভাবুকতায় কিছুমাত্র কৃত্রিমতার সন্ধান পাইলে ঐ বিষয় লইয়া সকলের সমক্ষে ব্যঙ্গ-পরিহাসে তাহাকে সময়ে সময়ে বিশেষ অপ্রতিভ করিতেন। আবার, পুরুষের স্ত্রীজনোচিত ভাবানুকরণ, যথা - বৈষ্ণবসম্প্রদায়ে প্রচলিত সখীভাবাদি-সাধনাভ্যাস কখনও কখনও কিরূপ হাস্যাস্পদ আকার ধারণ করে, তদ্বিষয়ের প্রসঙ্গ তুলিয়া তিনি ভক্তদিগের মধ্যে কখনও কখনও হাস্যের রোল তুলিতেন এবং আমাদিগের মধ্যে যাহাদিগের ঐরূপ ভাবপ্রবণতা ছিল তাহাদিগকে সখী-শ্রেণীভুক্ত বলিয়া নির্দেশ করিয়া পরিহাস করিতেন। ফলকথা, ধর্মসাধনে অগ্রসর হইয়াছে বলিয়া পুরুষ নিজ পুরুষকার, তত্ত্বানুসন্ধানপ্রবৃত্তি, ওজস্বিতাদি বিসর্জন দিয়া সঙ্কীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আপনাকে আবদ্ধ করিবে এবং স্ত্রীজনোচিত ভাবানুকরণ, বৈষ্ণব পদাবলী ও রোদনমাত্র অবলম্বন করিবে - ইহা পুরুষসিংহ নরেন্দ্রনাথ একেবারেই সহ্য করিতে পারিতেন না - তজ্জন্য ঠাকুরের পুরুষভাবাশ্রয়ী জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিবিশিষ্ট ভক্তদিগকে 'শিবের ভূত' অথবা 'দানা-শ্রেণীভুক্ত' বলিয়া পরিহাসপূর্বক নির্দেশ করিতেন এবং তদ্বিপরীত সকলকে পূর্বোক্তরূপে 'সখী-শ্রেণীভুক্ত' বলিতেন।