পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - তৃতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
মহিম ও নরেন্দ্রের তর্ক
শ্যামপুকুরে আসিয়া মহিমবাবু একদিন ঐরূপে নানা কথা কহিতে লাগিলেন এবং অন্য সকলপ্রকার সাধনোপায়কে হীন করিয়া তাঁহার অবলম্বিত সাধনপথই শ্রেষ্ঠ এবং সহজ, ইহা প্রতিপন্ন করিতে লাগিলেন। ঠাকুরের যুবকভক্তসকলে তাঁহার ঐ কথাসকল বিনা প্রতিবাদে শুনিতেছে দেখিয়া নরেন্দ্রনাথের আর সহ্য হইল না। তিনি বিপরীত তর্ক উত্থাপিত করিয়া মহিমবাবুর কথা অযুক্তিকর দেখাইতে লাগিলেন এবং বলিলেন, 'আপনার ন্যায় একতারা বাজাইয়া মন্ত্রোচ্চারণ করিলেই যে ঈশ্বর-দর্শন উপস্থিত হইবে তাহার প্রমাণ কি?' উত্তরে মহিমবাবু বলিলেন, 'নাদই ব্রহ্ম, ঐ স্বরসংযুক্ত মন্ত্রোচ্চারণের প্রভাবে ঈশ্বরকে দেখা দিতেই হইবে, অন্য আর কিছু করিবার আবশ্যক নাই।' নরেন্দ্র বলিলেন, 'ঈশ্বর আপনার সহিত ঐরূপ লেখাপড়া করিয়াছেন না কি? অথবা ঈশ্বর মন্ত্রৌষধি-বশ সর্পের ন্যায় - সুর চড়াইয়া হুম্-হাম্ করিলেই অবশ হইয়া সুড়সুড় করিয়া সম্মুখে নামিয়া আসিবেন!' বলা বাহুল্য, নরেন্দ্রনাথের তর্কের জন্য মহিমবাবুর প্রচারকার্যটা সেদিন বিশেষ জমিল না এবং তিনি ঐ দিবস শীঘ্র শীঘ্র বিদায়গ্রহণ করিলেন।