Prev | Up | Next

চতুর্থ খণ্ড - পঞ্চম অধ্যায়: ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের নবযাত্রা

স্বামী প্রেমানন্দের ভাবসমাধি-লাভের ইচ্ছায় ঠাকুরকে ধরায় তাঁহার ভাবনা ও দর্শন

শ্রীযুত বাবুরামের (স্বামী প্রেমানন্দের) ইচ্ছা হইল, তাঁহার ভাবসমাধি হউক। ঠাকুরকে যাইয়া কান্নাকাটি করিয়া বিশেষভাবে ধরিলেন - "আপনি করে দিন।" ঠাকুর তাঁহাকে শান্ত করিয়া বলিলেন, "আচ্ছা, মাকে বলব; আমার ইচ্ছাতে কি হয় রে?" - ইত্যাদি। কিন্তু ঠাকুরের সে কথা কে শোনে? বাবুরামের ঐ এক কথা - 'আপনি করে দিন।' এইরূপ আবদারের কয়েকদিন পরেই শ্রীযুত বাবুরামকে কার্যবশতঃ নিজেদের বাটী আঁটপুরে যাইতে হইল। সেটা ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দে। এদিকে ঠাকুর তো ভাবিয়া আকুল - কি করিয়া বাবুরামের ভাবসমাধি হইবে! একে বলেন, ওকে বলেন, "বাবুরাম ঢের করে কাঁদাকাটা করে গেছে যেন তার ভাব হয় - কি হবে? যদি না হয়, তবে সে আর এখানকার (আমার) কথা মানবেনি।" তারপর মাকে (শ্রীশ্রীজগদম্বাকে) বলিলেন, "মা, বাবুরামের যাতে একটু ভাবটাব হয়, তাই করে দে।" মা বলিলেন, "ওর ভাব হবে না; ওর জ্ঞান হবে।" ঠাকুরের শ্রীশ্রীজগদম্বার ঐ বাণী শুনিয়া আবার ভাবনা। আমাদের কাহারও কাহারও কাছে বলিলেনও - "তাইতো বাবুরামের কথা মাকে বললুম, তা মা বললে, 'ওর ভাব হবেনি, ওর জ্ঞান হবে'; তা যাই হোক, একটা কিছু হয়ে তার মনে শান্তি হলেই হলো; তার জন্যে মনটা কেমন করচে - অনেক কাঁদাকাটা করে গেছে" - ইত্যাদি। আহা, সে কতই ভাবনা, যাহাতে বাবুরামের কোনরূপে সাক্ষাৎ ধর্মোপলব্ধি হয়! আবার সেই ভাবনার কথা বলিবার সময় ঠাকুরের কেমন বলা - "এটা না হলে ও (বাবুরাম) আর মানবেনি।" - যেন তাহার মানা-না-মানার উপর ঠাকুরের সকলই নির্ভর করিতেছে!

Prev | Up | Next


Go to top