চতুর্থ খণ্ড - পঞ্চম অধ্যায়: ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের নবযাত্রা
স্বামী বিবেকানন্দের ঠাকুরকে ঐ বিষয় বারণ করায় তাঁহার দর্শন ও উত্তর
"নরেন্দর একবার বলেছিল, 'তুমি অত নরেন্দর নরেন্দর কর কেন? অত নরেন্দর নরেন্দর করলে তোমায় নরেন্দ্রের মতো হতে হবে। ভরত রাজা হরিণ ভাবতে ভাবতে হরিণ হয়েছিল।' নরেন্দরের কথায় খুব বিশ্বাস কি না? শুনে ভয় হলো! মাকে বললুম। মা বললে, 'ও ছেলেমানুষ; ওর কথা শুনিস কেন? ওর ভেতর নারায়ণকে দেখতে পাস, তাই ওর দিকে টান হয়!' শুনে তখন বাঁচলুম! নরেন্দরকে এসে বললুম, 'তোর কথা আমি মানি না; মা বলেছে তোর ভেতর নারায়ণকে দেখি বলেই তোর উপর টান হয়, যেদিন তা না দেখতে পাব, সেদিন থেকে তোর মুখও দেখব না রে শালা'।" এইরূপে অদ্ভুত ঠাকুরের অদ্ভুত ব্যবহারের প্রত্যেকটিরই অর্থ ছিল, আর আমরা তাহা না বুঝিয়া বিপরীত ভাবিলে পাছে আমাদের অকল্যাণ হয়, সেজন্য এইরূপে বুঝাইয়া দেওয়া ছিল।