চতুর্থ খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ - ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দের পুনর্যাত্রা ও গোপালের মার শেষকথা
ঠাকুরের বিরক্তি-প্রকাশে গোপালের মার কষ্ট ও শ্রীশ্রীমার তাঁহাকে সান্ত্বনা দেওয়া
দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছিয়াই গোপালের মা নহবতে শ্রীশ্রীমার নিকট ব্যাকুল হইয়া যাইয়া তাঁহাকে বলিলেন, "অ বৌমা, গোপাল এইসব জিনিসের পুঁটুলি দেখে রাগ করেছে; এখন উপায়? তা এ-সব আর নিয়ে যাব না, এইখানে বিলিয়ে দিয়ে যাই।"
শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরানীর অপার দয়া - বুড়িকে কাতর দেখিয়া সান্ত্বনা করিয়া বলিলেন, "উনি বলুনগে। তোমায় দেবার তো কেউ নেই, তা তুমি কি করবে মা - দরকার বলেই তো এনেচ?"
গোপালের মা তত্রাচ তাহার মধ্য হইতে একখানা কাপড় ও আরও কি কি দুই-একটি জিনিস বিলাইয়া দিলেন এবং ভয়ে ভয়ে দুই-একটি তরকারি স্বহস্তে রাঁধিয়া ঠাকুরকে ভাত খাওয়াইতে গেলেন। অন্তর্যামী ঠাকুর তাঁহাকে অনুতপ্তা দেখিয়া আর কিছুই বলিলেন না। আবার গোপালের মার সহিত হাসিয়া কথা কহিয়া পূর্ববৎ ব্যবহার করিতে লাগিলেন। গোপালের মাও আশ্বস্তা হইয়া ঠাকুরকে খাওয়াইয়া-দাওয়াইয়া বৈকালে কামারহাটি ফিরিলেন।