Prev | Up | Next

পঞ্চম খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ঠাকুরের পরীক্ষাপ্রণালী ও নরেন্দ্রনাথ

নরেন্দ্রের কার্য লক্ষ্য করিয়া ঠাকুর তাঁহার সম্বন্ধে যেরূপ ধারণা করেন

দক্ষিণেশ্বর-আগমনের পর হইতে ঠাকুর যে নরেন্দ্রনাথের প্রতি কার্য তন্ন তন্ন করিয়া নিত্য লক্ষ্য করিয়াছিলেন এ কথা আমরা ইতঃপূর্বেই উল্লেখ করিয়াছি। উহার ফলে তিনি বুঝিয়াছিলেন, ধর্মানুরাগ, সাহস, সংযম, বীর্য ও মহদুদ্দেশ্যে আত্মোৎসর্গ করা প্রভৃতি সদ্গুণসকল নরেন্দ্রের হৃদয়ে স্বভাবত প্রদীপ্ত রহিয়াছে। বুঝিয়াছিলেন, শুভ সংস্কারনিচয় তাঁহার হৃদয়ে এত অধিক বিদ্যমান রহিয়াছে যে, প্রতিকূল অবস্থায় পড়িয়া বিশেষরূপে প্রলুব্ধ হইলেও ইতরসাধারণের ন্যায় হীন কার্যের অনুষ্ঠান তাঁহার দ্বারা কখনও সম্ভবপর হইবে না। আর, সত্যনিষ্ঠা - নরেন্দ্রের কঠোর সত্যপালন দেখিয়া তিনি যে কেবল তাহার সকল কথায় বিশ্বাস করিতেন তাহাই নহে, কিন্তু তাঁহার প্রাণে দৃঢ় ধারণা হইয়াছিল, শীঘ্রই তাহার এমন অবস্থা উপস্থিত হইবে যখন সত্য ভিন্ন মিথ্যা বাক্য প্রমাদকালেও তাহার মুখ দিয়া নির্গত হইবে না - যখন তাহার মনের যদৃচ্ছা-উত্থিত সঙ্কল্পসকলও সর্বদা সত্যে পরিণত হইবে। সেজন্য তিনি তাহাকে ঐ বিষয়ে সর্বদা উৎসাহ প্রদানপূর্বক বলিতেন, "যে কায়মনোবাক্যে সত্যকে ধরিয়া থাকে, সে সত্যস্বরূপ ঈশ্বরের দর্শনলাভে ধন্য হয়", - "বার বৎসর কায়মনোবাক্যে সত্যপালন করিলে মানব সত্যসঙ্কল্প হয়"।

Prev | Up | Next


Go to top