পঞ্চম খণ্ড - সপ্তম অধ্যায়: ঠাকুরের পরীক্ষাপ্রণালী ও নরেন্দ্রনাথ
রহস্যজনক ঘটনা - চামচিকাকে চাতক নির্ণয়
সত্যনিষ্ঠার জন্য নরেন্দ্রনাথের উপর ঠাকুরের দৃঢ় বিশ্বাস সম্বন্ধে একটি রহস্যজনক ঘটনা আমাদিগের মনে উদয় হইতেছে। একদিন কথাপ্রসঙ্গে ঠাকুর ভক্তের স্বভাব চাতক পক্ষীর ন্যায় হইয়া থাকে বলিয়া বুঝাইয়া দিতেছিলেন, "চাতক যেমন নিজ পিপাসা শান্তির জন্য সর্বদা মেঘের দিকে তাকাইয়া থাকে এবং উহার উপর সর্বতোভাবে নির্ভর করে, ভক্তও তদ্রূপ নিজ প্রাণের পিপাসা ও সর্বপ্রকার অভাব মিটাইবার জন্য একমাত্র ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে" - ইত্যাদি। নরেন্দ্রনাথ তখন তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি সহসা বলিয়া উঠিলেন, "মহাশয়, চাতক বৃষ্টির জল ভিন্ন অন্য কিছু পান করে না - ঐরূপ প্রসিদ্ধ থাকিলেও ঐ কথা সত্য নহে, অন্য পক্ষীসকলের ন্যায় নদী প্রভৃতি জলাশয়েও পিপাসা শান্তি করিয়া থাকে। আমি চাতক পক্ষীকে ঐরূপে জলপান করিতে দেখিয়াছি।" ঠাকুর বলিলেন, "সে কিরে - চাতক অন্য পক্ষীর ন্যায় জলপান করে? তবে তো আমার এতকালের ধারণা মিথ্যা হলো। তুই যখন দেখিয়াছিস তখন তো আর ঐ বিষয়ে সন্দেহ করিতে পারি না।" বালকের ন্যায় স্বভাবসম্পন্ন ঠাকুর ঐরূপ বলিয়াই নিশ্চিন্ত হইলেন না, ভাবিতে লাগিলেন - ঐ ধারণাটা যেমন ভ্রম বলিয়া প্রমাণিত হইল তাঁহার অন্য ধারণাসকলও তো ঐরূপ হইতে পারে। ঐরূপ ভাবিয়া তিনি বিশেষ বিষণ্ণ হইলেন। উহার স্বল্পদিন পরেই নরেন্দ্র এক দিবস ঠাকুরকে সহসা ডাকিয়া বলিলেন, "ঐ দেখুন মহাশয়, চাতক গঙ্গার জল পান করিতেছে।" ঠাকুর ব্যস্ত হইয়া দেখিতে আসিয়া বলিলেন, "কই রে?" নরেন্দ্র দেখাইয়া দিলে তিনি দেখিলেন একটি চামচিকা জলপান করিতেছে এবং হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "ওটা চামচিকা যে! ওরে শালা, তুই চামচিকাকে চাতক জ্ঞান করিয়া আমাকে এতটা ভাবাইয়াছিস! তোর সকল কথায় আর বিশ্বাস করিব না।"