পঞ্চম খণ্ড - দশম অধ্যায়: পাণিহাটির মহোৎসব
রাত্রে আহারকালে শ্রীশ্রীমার সম্বন্ধে জনৈকা স্ত্রী-ভক্তের সহিত কথা
স্ত্রী-ভক্তেরা সেই রাত্রি শ্রীশ্রীমার নিকটে অবস্থান করিলেন এবং স্নানযাত্রার দিবসে ৺দেবীপ্রতিষ্ঠার বাৎসরিক উপলক্ষে কালীবাটীতে বিশেষ সমারোহ হইবে জানিতে পারিয়া ঐ পর্ব দর্শনান্তে কলিকাতায় ফিরিবেন বলিয়া স্থির করিলেন। রাত্রে আহার করিতে বসিয়া ঠাকুর পাণিহাটির উৎসবের কথাপ্রসঙ্গে তাঁহাদের একজনকে বলিলেন, "অত ভিড়, তাহার উপর ভাবসমাধির জন্য আমাকে সকলে লক্ষ্য করিতেছিল - ও (শ্রীশ্রীমা) সঙ্গে না যাইয়া ভালই করিয়াছে, ওকে সঙ্গে দেখিলে লোকে বলিত 'হংস-হংসী এসেছে!' ও খুব বুদ্ধিমতী।" শ্রীশ্রীমার অসামান্য বুদ্ধির দৃষ্টান্তস্বরূপে পুনরায় বলিতে লাগিলেন, "মাড়োয়ারী ভক্ত1 যখন দশ হাজার টাকা দিতে চাহিল তখন আমার মাথায় যেন করাত বসাইয়া দিল; মাকে বলিলাম, 'মা, এতদিন পরে আবার প্রলোভন দেখাইতে আসিলি!' সেই সময়ে ওর মন বুঝিবার জন্য ডাকাইয়া বলিলাম, 'ওগো, এই টাকা দিতে চাহিতেছে, আমি লইতে পারিব না বলায় তোমার নামে দিতে চাহিতেছে, তুমি উহা লও না কেন - কি বল?' শুনিয়াই ও বলিল, 'তা কেমন করিয়া হইবে? টাকা লওয়া হইবে না, আমি লইলে ঐ টাকা তোমারই লওয়া হইবে। কারণ, আমি উহা রাখিলে তোমার সেবা ও অন্যান্য আবশ্যকে উহা ব্যয় না করিয়া থাকিতে পারিব না; সুতরাং ফলে উহা তোমারই গ্রহণ করা হইবে। তোমাকে লোকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করে তোমার ত্যাগের জন্য - অতএব টাকা কিছুতেই লওয়া হইবে না।' ওর (শ্রীশ্রীমার) ঐ কথা শুনিয়া আমি হাঁপ ফেলিয়া বাঁচি!"
1. ইহার নাম লছমীনারায়ণ ছিল।↩