পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
ঔষধে সম্যক্ ফল না পাওয়ায় ডাক্তারের চিন্তা ও আচরণের দৃষ্টান্ত
ঐরূপে ভাদ্র-আশ্বিনের কিয়দংশ অতীত হইয়া ক্রমে ৺দুর্গাপূজার কাল উপস্থিত হইয়াছিল। ঠাকুরের অসুস্থতা ঐ সময়ে কোন কোন দিন কিছু অধিক এবং অন্য সকল দিনে অল্প, এইভাবে চলিয়াছিল। ঔষধে সম্যক্ ফল পাওয়া যাইতেছিল না। ডাক্তার একদিন আসিয়া রোগ বাড়িয়াছে দেখিয়া বলিয়া বসিলেন, "নিশ্চয় পথ্যের কোন অনিয়ম হইতেছে; আচ্ছা বল দেখি, আজ কি কি খাইয়াছ?"
প্রাতে ভাতের মণ্ড, ঝোল ও দুধ, এবং সন্ধ্যায় দুধ ও যবের মণ্ডাদি তরল খাদ্যই ঠাকুর খাইতেছিলেন, সুতরাং ঐ কথাই বলিলেন। ডাক্তার বলিলেন, "তথাপি নিশ্চয় কোন নিয়মের ব্যতিক্রম হইয়াছিল। আচ্ছা বল তো, কোন্ কোন্ আনাজ দিয়া ঝোল রাঁধা হইয়াছিল?" ঠাকুর বলিলেন, "আলু, কাঁচকলা, বেগুন, দুই এক টুকরা ফুলকপিও ছিল!"
ডাক্তার বলিলেন, "এ্যাঁ - ফুলকপি খেয়েছ? এ তো খাবার অত্যাচার হয়েছে, ফুলকপি বিষম গরম ও দুষ্পাচ্য। কয় টুকরা খেয়েছ?"
ঠাকুর বলিলেন, "এক টুকরাও খাই নাই, তবে ঝোলে উহা ছিল দেখিয়াছি।"
ডাক্তার বলিলেন, "খাও আর নাই খাও, ঝোলে উহার সত্ত্ব তো ছিল - সেজন্যই তোমার হজমের ব্যাঘাত হইয়া আজ ব্যারামের বৃদ্ধি হইয়াছে।"
ঠাকুর বলিলেন, "সে কি গো! কপি খাইলাম না, পেটের অসুখও হয় নাই, ঝোলে কপির একটু রস ছিল বলিয়া ব্যারাম বাড়িয়াছে, এ কথা যে আদৌ মনে নেয় না।"