পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
একটু অত্যাচার অনিয়মে কতটা অপকার হয় তাহার দৃষ্টান্ত
ডাক্তার বলিলেন, "ঐরূপ একটুতে যে কতটা অপকার করিতে পারে তাহা তোমাদের ধারণা নাই। আমার জীবনের একটা ঘটনা বলিতেছি, শুনিলে বুঝিতে পারিবে। আমার হজমশক্তিটা বরাবরই কম; মধ্যে মধ্যে অজীর্ণে খুব ভুগিতে হইত; সেজন্য খাদ্যের সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক হইয়া নিয়ম রক্ষা করিয়া সর্বদা চলি। দোকানের কোন জিনিস খাই না; ঘি, তেল পর্যন্ত বাড়িতে করাইয়া লই। তথাচ এক সময়ে বিষম সর্দি হইয়া ব্রন্কাইটিস হইল, কিছুতেই সারিতে চায় না। তখন মনে হইল, নিশ্চিত খাবারে কোন প্রকার দোষ হইতেছে। সন্ধান করিয়া উহাতেও কোন প্রকার দোষ ধরিতে পারিলাম না। উহার পরে সহসা একদিন চোখে পড়িল, যে গরুটার দুধ খাইয়া থাকি, তাহাকে চাকরটা কতকগুলো মাষকড়াই খাওয়াইতেছে। জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, কোন স্থান হইতে কয়েক মণ ঐ কড়াই পাওয়া গিয়াছিল, সর্দির ভয়ে কেহ খাইতে চাহে না বলিয়া কিছু দিন হইতে উহা গরুকে খাইতে দেওয়া হইতেছে। মিলাইয়া পাইলাম, যখন হইতে ঐরূপ করা হইয়াছে প্রায় সেই সময় হইতে আমার সর্দি হইয়াছে। তখন গরুকে ঐ কড়াই খাওয়ানো বন্ধ করিলাম, সঙ্গে সঙ্গে আমার সর্দিও অল্পে অল্পে কমিতে লাগিল। সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য হইতে সেইবার অনেক দিন লাগিয়াছিল এবং বায়ুপরিবর্তনাদিতে আমার চারি পাঁচ হাজার টাকা খরচ হইয়া গিয়াছিল।"
ঠাকুর শুনিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন, "ও বাবা, এ যে তেঁতুলতলা দিয়া গিয়াছিল বলিয়া সর্দি হইল - সেইরূপ!"
সকলে হাসিতে লাগিল। ডাক্তারের ঐরূপ অনুমান করাটা একটু বাড়াবাড়ি বলিয়া বোধ হইলেও, উহাতে তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাস দেখিয়া ঐ বিষয়ে আর কোন কথা কেহ উত্থাপন করিল না এবং তাঁহার নিষেধ মানিয়া লইয়া তখন হইতে ঠাকুরের ঝোলে কপি দেওয়া বন্ধ করা হইল।