Prev | Up | Next

পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান

গিরিশচন্দ্রের হরিবল্লভকে আনয়ন ও ঠাকুরের আচরণে তাঁহার সম্পূর্ণ বিপরীতভাবাপন্ন হওয়া

পরদিন অপরাহ্ণে প্রায় ৫টার সময় গিরিশচন্দ্র হরিবল্লভবাবুকে সঙ্গে লইয়া উপস্থিত হইলেন এবং ঠাকুরের সহিত তাঁহাকে পরিচিত করিবার মানসে বলিলেন, "ইনি আমার বাল্যবন্ধু, কটকের সরকারী উকিল হরিবল্লভ বসু, আপনাকে দর্শন করিতে আসিয়াছেন।" ঠাকুর ঐ কথা শুনিয়া তাঁহাকে পরম সমাদরে নিজ সমীপে বসাইয়া বলিলেন, "তোমার কথা অনেকের নিকটে শুনিয়া তোমাকে দেখিবার ইচ্ছা হইত, আবার মনে ভয়ও হইত - যদি তোমার পাটোয়ারী বুদ্ধি হয়! (গিরিশকে লক্ষ্য করিয়া) কিন্তু এখন দেখিতেছি তাহা তো নয়, (হরিবল্লভ বসুকে নির্দেশ করিয়া) এই যে বালকের ন্যায় সরল! (গিরিশকে) কেমন চক্ষু দেখিয়াছ? ভক্তিপূর্ণ অন্তর না হইলে অমন চক্ষু কখনও হয় না! (হরিবল্লভবাবুকে সহসা স্পর্শ করিয়া) হাঁ গো, ভয় করা দূরে থাকুক, তোমাকে যেন কত আত্মীয় বলিয়া মনে হইতেছে।" হরিবল্লভবাবু প্রণাম ও পদধূলিগ্রহণপূর্বক বলিলেন, "সেটা আপনার কৃপা।"

গিরিশচন্দ্র এইবার বলিলেন, "যে বংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন তাহাতে উঁহার তো ভক্তিমান হইবারই কথা; ৺কৃষ্ণরাম বসুর ভক্তি তাঁহাকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া রাখিয়াছে, তাঁহার কীর্তিতে দেশ উজ্জ্বল হইয়া রহিয়াছে। তাঁহার বংশে যাঁহারা জন্মিয়াছেন তাঁহারা ভক্তিমান হইবেন না তো হইবে কাহারা।"

ঐরূপে ভগবদ্ভক্তির প্রসঙ্গ উঠিল, এবং ঈশ্বরবিশ্বাস, ভক্তি ও ঐকান্তিক নির্ভরতাই মানবজীবনের চরম সার্থকতা - ঐ বিষয়ে নানা কথা উপস্থিত সকলকে বলিতে বলিতে ঠাকুরের ভাবাবেশ হইল। অনন্তর অর্ধবাহ্যদশা প্রাপ্ত হইয়া ঠাকুর আমাদিগের একজনকে একটি ভজনসঙ্গীত গাহিতে বলিলেন এবং উহার মর্ম হরিবল্লভবাবুকে মৃদুস্বরে বুঝাইয়া বলিতে বলিতে পুনরায় গভীর ভাবাবিষ্ট হইয়া পড়িলেন। সঙ্গীত সম্পূর্ণ হইলে দেখা গেল, দুই-তিনজন যুবক ভক্তেরও ভাবাবেশ হইয়াছে এবং ঠাকুরের ভাবোজ্জ্বল মূর্তি ও মর্মস্পর্শী বাণীতে এককালে মুগ্ধ হওয়ায় হরিবল্লভবাবুর নয়নদ্বয়ে প্রেমধারা বিগলিত হইতেছে। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া কিছুকাল গত হইবার পরে হরিবল্লভবাবু সেদিন ঠাকুরের নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়াছিলেন।

Prev | Up | Next


Go to top