পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
দৃষ্টান্ত - উপেন্দ্র মুনসেফ
ঘটনাটি আমরা মহাকবি গিরিশচন্দ্রের বন্ধুবৎসল কনিষ্ঠ সহোদর পরলোকগত অতুলচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের নিকটে শ্রবণ করিয়াছিলাম। যথাসম্ভব তাঁহারই ভাষায় আমরা উহা লিপিবদ্ধ করিতে চেষ্টা করিব - "উপেন্দ্র1 আমার বিশেষ বন্ধু ছিল, বিদেশে ডেপুটিগিরি চাকরি করিত। ঠাকুরের সহিত পরিচিত হইবার পরে তাহাকে চিঠিতে লিখিয়াছিলাম, 'এবার যখন আসিবে তখন তোমাকে এক অদ্ভুত জিনিস দেখাইব।' বড়দিনের ছুটিতে আসিয়া সে সেই কথা স্মরণ করাইয়া দিল। আমি বলিলাম, 'মনে করেছিলাম তোমায় রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে দেখাব - কিন্তু এখন তাঁর অসুখ, শ্যামপুকুরে আছেন, কথা কহিতে ডাক্তারের বারণ - তুমি নূতন লোক, তোমায় এখন কেমন করিয়া লইয়া যাই?' সে দিন গেল। তাহার পর উপেন্দ্র আর একদিন মেজদাদার (গিরিশচন্দ্রের) সঙ্গে দেখা করিতে আসিয়াছে, ঠাকুরের কথা উঠিল এবং মেজদাদা তাহাকে বলিলেন, 'যাস্ না একদিন অতুলের সঙ্গে, তাঁকে দেখতে।' উপেন বলিল, 'উনি তো ছয় মাস (পূর্ব) হইতে বলিতেছিলেন লইয়া যাইব, কিন্তু যখন এখানে আসিয়া সেই কথা বলিলাম, তখন বলিলেন - এখন হইবে না।' আমি শুনিয়া মেজদাদাকে বলিলাম, 'আমরাই এখন সব সময়ে ঢুকিতে পাই না, নূতন লোককে কেমন করিয়া লইয়া যাই।' মেজদাদা বলিলেন, 'তাহা হউক, তবু একদিন লইয়া যাস, তাহার পরে ওর অদৃষ্টে থাকে তিনি ওকে দর্শন দিবেন, আদর করিবেন।'"
1. শ্রীযুক্ত উপেন্দ্রনাথ ঘোষ, ইনি শ্যামবাজারস্থ সুপ্রসিদ্ধ শ্রীযুক্ত ভূপেন্দ্রনাথ বসু মহাশয়ের কোন আত্মীয়াকে বিবাহ করেন এবং মুনসেফ ছিলেন।↩