পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
রামদাদার কথায় অতুলের বিরক্তি
"তোমার মনে আছে বোধ হয়, রামদাদা1 এই সময়ে প্রায়ই বাটীতে সকাল সকাল আহারাদি করিয়া আফিসের কাপড়-চোপড় সঙ্গে লইয়া ঠাকুরের নিকটে আসিতেন এবং দুই-এক ঘণ্টা এখানে কাটাইয়া বেশপরিবর্তনপূর্বক কর্মস্থলে চলিয়া যাইতেন। ঠাকুর যখন আজ উপেনের প্রশ্নের উত্তর দিতেছেন, তখন তিনি আফিসে যাইবার বেশ পরিতে পরিতে ঐ ঘরে সহসা আসিয়া ঠাকুরের কথাগুলি শুনিয়াছিলেন। আমরা যেমন বাহিরে আসিয়াছি অমনি রামদাদা বলিয়া উঠিলেন, 'অতুলদাদা, ওঁকে (উপেনকে) এদিকে নিয়ে এস; ঠাকুর ওঁর প্রশ্নের উত্তরে বড় শক্ত কথা বলিয়াছেন, উনি বুঝিতে পারিবেন না। আমার এই বইখানা2 ওঁকে পড়িতে হইবে, তবে উনি ঠাকুরের ঐ কথা বুঝিতে পারিবেন।' ঐ কথা শুনিয়া আমার ভারী রাগ হইল, বলিয়া ফেলিলাম, 'রামদাদা, তুমি না আমাদের চেয়ে সাত বৎসর আগে ঠাকুরকে দেখেছ ও তাঁর কাছে যাওয়া-আসা করছ? উনি (ঠাকুর) যা বললেন তা বুঝতে পারবে না, আর তোমার বই পড়ে উনি যা বোঝাতে পারলেন না তা বুঝতে পারবে! এটা তোমার কেমনতর কথা? তবে উপেনকে তোমার বইখানা পড়তে দেবে, দাও - সেটা আলাদা কথা।' রামদাদা ঐ কথায় একটু অপ্রস্তুত হইয়া পুস্তকখানি উপেনকে দিলেন।"
1. শ্রীযুক্ত রামচন্দ্র দত্ত।↩
2. শ্রীরামচন্দ্র দত্ত প্রণীত 'তত্ত্বপ্রকাশিকা'।↩