পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
ঈশ্বর সাকার নিরাকার দুই-ই - যেমন জল আর বরফ
"তাহার পর একদিন প্রাতে উপেনকে লইয়া যাইলাম। তখন ঠাকুরের নিকটে বড় একটা কেহ নাই - কেবল, সেবকদিগের দুই-একজন ও আমার ভগ্নীপতি 'মল্লিক মহাশয়' ছিলেন! যাইবার পরে1 উপেনকে পৈ-পৈ করিয়া বলিয়া দিয়াছিলাম, 'যাহা জিজ্ঞাসা করিবার স্বয়ং করিবি, তাহা হইলে মনের মতো উত্তর পাইবি; কাহাকেও দিয়া প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করাইবি না।' কিন্তু সে মুখচোরা ছিল, যাহা বারণ করিয়াছিলাম এখানে আসিয়া তাহাই করিয়া বসিল - মল্লিক মহাশয়ের দ্বারা প্রশ্ন করাইল। ঠাকুর উত্তর করিলেন, কিন্তু উপেনের মুখের ভাবে বুঝিলাম, উত্তরটি তাহার মনের মতো হইল না। তখন আমি তাহাকে পুনরায় চুপি-চুপি বলিলাম, 'ঐরূপ তো হবেই, আমি যে তোকে বার বার বলে এলাম, যা জিজ্ঞাসা করবার আপনি করবি; নিজে জিজ্ঞাসা কর না, মোক্তার ধরেছিস কেন?'
"সাহস করিয়া সে এইবার স্বয়ং জিজ্ঞাসা করিল, 'মহাশয়, ঈশ্বর সাকার না নিরাকার? আর যদি দুই-ই হন, তাহা হইলে একসঙ্গে ঐরূপ সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবের দুই কেমন করিয়া হইতে পারেন?' ঠাকুর শুনিয়াই বলিলেন, 'তিনি (ঈশ্বর) সাকার নিরাকার দুই-ই - যেমন জল, আর বরফ'। উপেন কলেজে বিজ্ঞান (Science course) লইয়াছিল, তজ্জন্য ঠাকুরের পূর্বোক্ত দৃষ্টান্ত তাহার মনের মতো হইল এবং উহার সহায়ে সে তাহার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পাইয়া আনন্দিত হইল। ঐ প্রশ্নটি করিয়াই কিন্তু সে নিরস্ত হইল এবং কিছুক্ষণ পরে ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া বিদায় গ্রহণ করিল। বাহিরে আসিয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, 'উপেন, তুমি তিনটি প্রশ্নের কথা বলিয়াছিলে, একটিমাত্র জিজ্ঞাসা করিয়াই উঠিয়া আসিলে কেন?' সে তাহাতে বলিল, 'তাহা বুঝি বুঝ নাই - ঐ এক উত্তরে আমার তিনটি প্রশ্নেরই মীমাংসা হইয়া গিয়াছে।'"
1. খুব সম্ভবতঃ "যাইবার পথে" হইবে। - ১৮ আগস্ট ২০১৯, সঙ্কলক।↩