পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - তৃতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
মহিমবাবুর ধর্ম-সাধনা
সাধনার মধ্যে দেখা যাইত মহিমবাবু যখন তখন এবং যেখানে সেখানে একতারার সুরের সহিত গলা মিলাইয়া প্রণবোচ্চারণ, মধ্যে মধ্যে এক-আধটি উত্তরগীতাদি পুস্তকের শ্লোকপাঠ ও হুঙ্কারধ্বনি করিতেন। তিনি বলিতেন, উহাই সনাতন জ্ঞানমার্গের সাধনা, উহা করিলে অন্য কোনও সাধনা করিবার প্রয়োজন নাই। উহাতেই কুলকুণ্ডলিনী জাগরিতা হইয়া উঠিবে এবং ঈশ্বরদর্শন হইবে। মহিমবাবুর বাটীতে শ্রীশ্রীঅন্নপূর্ণা-মূর্তি প্রতিষ্ঠিতা ছিলেন এবং বোধ হয় প্রতি বৎসর ৺জগদ্ধাত্রীপূজাও হইত - উহা হইতে অনুমিত হয় তিনি শাক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। শেষজীবনে ইনি শক্তিসাধনপ্রণালীই অবলম্বন করিয়াছিলেন বলিয়া বোধ হয়। কারণ তখন ইঁহাকে একখানি ছোট বগি-গাড়িতে করিয়া ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিবার কালে মধ্যে মধ্যে চিৎকার করিয়া বলিতে শুনা যাইত, 'তারা তত্ত্বমসি, ত্বমসি তৎ।' চক্রবর্তীমহাশয়ের অল্পস্বল্প জমিদারি ছিল, তাহার আয় হইতেই তাঁহার সংসার নির্বাহ হইত।