পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
অপরা বিদ্যার সহায়ে পরাবিদ্যা লাভ
যতদূর মনে হয়, আমাদিগের মধ্যে কেহ এই সময়ে ইঙ্গিত করিয়াছিল, সত্যানুরাগ থাকিলেও ডাক্তারবাবুর অপরা বিদ্যার শ্রেণীভুক্ত আপেক্ষিক (relative) সত্যাবিষ্কারের দিকেই অনুরাগ - ঠাকুরের কিন্তু পরাবিদ্যার প্রতিই চিরকাল ভালবাসা।
ডাক্তার উহাতে একটু উত্তেজিত হইয়া বলিলেন, "ঐ তোমাদের এক কথা; বিদ্যার আবার পরা, অপরা কি? যা হতে সত্যের প্রকাশ হয়, তার আবার উঁচু নীচু কি? আর যদিই একটা ঐরূপ মনগড়া ভাগ কর, তাহা হইলে এটা তো স্বীকার করিতেই হইবে, অপরা বিদ্যার ভিতর দিয়াই পরাবিদ্যা লাভ করিতে হইবে - বিজ্ঞানের চর্চা দ্বারা আমরা যেসকল সত্য প্রত্যক্ষ করি, তাহা হইতেই জগতের আদি কারণের বা ঈশ্বরের কথা আরও বিশেষভাবে বুঝিতে পারি। আমি নাস্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাটাদের ধরিতেছি না! তাহাদের কথা বুঝিতেই পারি না - চক্ষু থাকিতেও তারা অন্ধ। তবে একথাও যদি কেহ বলেন যে, অনাদি অনন্ত ঈশ্বরের সবটা তিনি বুঝে ফেলেছেন, তা হলে তিনি মিথ্যাবাদী, জুয়াচোর - তাঁহার জন্য পাগলা-গারদের ব্যবস্থা করা উচিত।"