পঞ্চম খণ্ড - দ্বাদশ অধ্যায় - দ্বিতীয় পাদ: ঠাকুরের শ্যামপুকুরে অবস্থান
মন বুঝে প্রাণ বুঝে না
ঐ বলিয়া ঠাকুর আমাদিগের জনৈককে ভক্তাগ্রণী শ্রীরামপ্রসাদের - 'কে জানে মন কালী কেমন, ষড়দর্শনে না পায় দরশন'1 গীতটি গাহিতে বলিলেন এবং উহা শুনিতে শুনিতে উহার ভাবার্থ মৃদুস্বরে ডাক্তারকে মধ্যে মধ্যে বুঝাইয়া দিতে লাগিলেন। 'আমার প্রাণ বুঝেছে মন বোঝে না, ধরবে শশী হয়ে বামন' গীতের এই অংশটি গাহিবার কালে ঠাকুর গায়ককে বাধা দিয়া বলিলেন, "উঁহুঁ, উলটোপালটা হচ্ছে; 'আমার মন বুঝেছে প্রাণ বোঝে না' - এইরূপ হইবে; মন তাঁকে (ঈশ্বরকে) জানতে গিয়ে সহজেই বুঝে যে, অনাদি অনন্ত ঈশ্বরকে ধরা তাহার কর্ম নহে, প্রাণ কিন্তু ঐ কথা বুঝিতে চাহে না, সে কেবলি বলে - কি করে আমি তাঁকে পাব।"
ডাক্তার ঐ কথা শুনিয়া মুগ্ধ হইয়া বলিলেন, "ঠিক বলেছ, মন ব্যাটা ছোট লোক, একটুকুতেই পারব না, হবে না বলে বসে; কিন্তু প্রাণ ঐ কথায় সায় দেয় না বলেই তো যত কিছু সত্যের আবিষ্কার হয়েছে ও হচ্ছে।"
1. কে জানে মন কালী কেমন।
ষড়দর্শনে না পায় দরশন॥
তাঁকে মূলাধারে সহস্রারে সদা যোগী করে মনন।
কালী পদ্মবনে হংস সনে, হংসীরূপে করে রমণ॥
আত্মারামের আত্মা কালী, প্রমাণ প্রণবের মতন।
তারা ঘটে ঘটে বিরাজ করেন, ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা যেমন॥
মায়ের উদরে ব্রহ্মাণ্ডভাণ্ড, প্রকাণ্ড তা জান কেমন।
মহাকাল জেনেছেন কালীর মর্ম, অন্য কে বা জানে তেমন॥
প্রসাদ ভাষে লোকে হাসে, সন্তরণে সিন্ধুতরণ।
আমার মন বুঝেছে প্রাণ2 বোঝে না ধরবে শশী হয়ে বামন॥↩
2. গায়ক ভুল করিয়া 'প্রাণ বুঝেছে মন বুঝে না' গাহিয়াছিল।↩