Prev | Up | Next

প্রথম খণ্ড - শ্রীপ্রভুর জন্মকথা

আইর যে গর্ভে জন্ম লইলেন প্রভু।
আশ্চর্য কাহিনী হেন নাহি শুনি কভু॥
একবার পিতা তাঁর গয়াধামে যান।
ঘটিল তথায় কিবা শুনহ আখ্যান॥
একদিন দ্বিজবর দেখেন স্বপন।
অতি সুমধুর কথা আশ্চর্য কথন॥
শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম চতুর্ভুজধারী।
শ্যামল উজ্জ্বল কায় করজোড় করি॥
পুত্র হ'য়ে জনমিব তোমার আগারে।
হাসিয়া হাসিয়া কথা কন দ্বিজবরে॥
উত্তরে কহেন দ্বিজ ওরে বাছাধন।
কি খাওয়াব তোরে আমি দরিদ্র ব্রাহ্মণ॥
পুনশ্চ মূরতি কহে ব্রাহ্মণের ঠাঁই।
আমার পোষণে ভার-চিন্তা কিছু নাই॥
এত বলি নিমিষের মধ্যে অন্তর্ধান।
অদর্শনে ব্রাহ্মণের আকুল পরাণ॥
নিদ্রা-ভঙ্গে উঠিলেন ব্রাহ্মণ চমকি।
এ ঘোর রজনীযোগে এ কি রূপ দেখি॥
আপনার মনে দ্বিজ করিয়া বিচার।
অবগত হইলেন মর্ম কি ইহার॥
হেথা আই ঠাকুরানী আপন ভবনে।
কহিতেছিলেন কথা নারীত্রয় সনে॥
শিবের মণ্ডপ এক আছিল অদূরে।
দেখিলেন আসে কিবা বায়ু-রূপাকারে॥
আসিয়া প্রবেশ কৈল গর্ভেতে তাঁহার।
ভয়ার্ত হইলা আই দেখিয়া ব্যাপার॥
যে তিন নারীর সঙ্গে কথা হ'তেছিল।
আইঠাকুরানী তত্ত্ব ভাঙিয়া কহিল॥
নানা জনে নানা মতে নানা কথা কহে।
অবাক্ হইয়া আই দাঁড়াইয়া রহে॥
নারীত্রয়মধ্যে এক ধনী কামারিনী।
পশ্চাৎ গাইব আমি তাঁহার কাহিনী॥
অতি ভাগ্যবতী এই কামারের মেয়ে।
থাকিলে নিতাম তাঁর পদরজ গিয়ে॥
প্রভুতে বাৎসল্য বড় আছিল তাঁহার।
কত ভাগ্য এ সৌভাগ্য ঘটয়ে কাহার॥
ভুবনপাবন যিনি বাঞ্ছাকল্পতরু।
অনাথের নাথ যিনি জগতের গুরু॥
সম্বোধন করিতেন তাঁহারে মা বলি।
এ অভাগা মাগে হেন-জন-পদধূলি॥
বিচার না করি কিছু জাতিকুলাচার।
রামকৃষ্ণে যেবা 'বাসে পূজ্য সে সবার॥
ব্রাহ্মণ হইয়া যদি প্রভুদ্বেষী হয়।
চণ্ডাল হইতে নীচ মম মনে লয়॥

Prev | Up | Next


Go to top