প্রথম খণ্ড - শ্রীপ্রভুর জন্মকথা
৪
গয়াধাম হইতে চাটুয্যে-মহাশয়।
করম সমাধা করি ফিরিলা আলয়॥
সব নিবেদিলা তাঁরে আইঠাকুরানী।
যে দিনে যেখানে যাহা দেখিলেন তিনি॥
স্বপনের কথা দ্বিজ স্মরিয়া অন্তরে।
আইরে কহেন কথা না কবে কাহারে॥
দিন দিন যায় যত গর্ভ তত বাড়ে।
কান্তি দেখে অপরের ভ্রান্তি হয় তাঁরে॥
আইর লাবণ্যচ্ছটা অতি অপরূপ।
স্বরূপ ঘুচিয়া হইল সুরূপ স্বরূপ॥
স্বভাব হৈল যেন ঠিক পাগলিনী।
দেখে শুনে প্রতিবাসী করে কানাকানি॥
যেরূপ রূপের ছটা গর্ভিণীর গায়।
বোধ হয় ব্রহ্মদৈত্য পেয়েছে উহায়॥
কেহ কয় বহু বয়ঃ গর্ভ তায় হ'ল।
বাঁচে কি না বাঁচে বুঝি এইবার গেল॥
আইও কেমন হৈলা ভূতে-পাওয়া মত।
কখনও উল্লাস ত্রাস কথা নানামত॥
কখনও বলেন তিনি হৃদি-অকপটে।
পতিস্পর্শে গর্ভ নয় কি ঢুকেছে পেটে॥
দেখেন শুনেন কত গর্ভ-অবস্থায়।
অতি অসম্ভব কথা কহনে না যায়॥
গর্ভ-অবস্থার কথা সুন্দর ভারতী।
দেখেন কতই দেব-দেবীর মূরতি॥
তিন চার মাস গর্ভ আইর যখন।
একদিন ঘটে এক অদ্ভুত ঘটন॥
অলসে অবশ তনু শুইয়া দুয়ারে।
কপাট করিয়া বন্ধ আপনার ঘরে॥
হেনকালে শুনিলেন আইঠাকুরানী।
রুনুঝুনু নূপুরের সুমধুর ধ্বনি॥
কুতূহলে যত আই কান পাতি শুনে।
ততই নূপুরবাদ্য বাজে ঘনে ঘনে॥
আশ্চর্য গণিয়া আই ভাবে মনে মন।
নূপুরের বাদ্য ঘরে হয় কি কারণ॥
কপাট করেছি বন্ধ শূন্য ঘর দেখি।
বুঝি মোর অগোচরে কেহ গেছে ঢুকি॥
এত ভাবি কপাট খুলিয়া দেখে আই।
ঠিক সেই শূন্য ঘর কেহ কোথা নাই॥
কারে কিছু না কহিয়া মৌন হয়ে রন।
স্বামীরে কহিলা ঘরে আইলা যখন॥
নূপুরের বাদ্য ঘরে কি কারণ হয়।
বুঝি না কি হেতু তাই হয়েছে বিস্ময়॥
ব্রাহ্মণ বুঝিল তত্ত্ব ভার্যার কথায়।
লয়ে তাঁরে সংগোপনে কতই বুঝায়॥
এ অতি মঙ্গল কথা না করিবে ভয়।
হইবে গোকুলচাঁদ ভবনে উদয়॥
আর দিন নিদ্রাযোগে দেখেন স্বপন।
কি সুন্দর শিশু কোলে করে আরোহণ॥
বুকে উঠে ছোট হাতে গলা ছেঁদে ধরে।
জিনি শশী রূপরাশি সুহাসি অধরে॥
অস্পষ্ট কতই কথা ধীরে ধীরে বলি।
অবশেষে বুক হ'তে পড়িল পিছলি॥
অমনি চমকি আই জাগিয়া উঠিলা।
কোথা গেলি বলি আই কাঁদিতে লাগিলা॥
স্বপনের কথা পরে বুঝিয়া আপনে।
সংবরিলা আঁখিজল আপন নয়নে॥
কত কি দেখেন আই কব আমি ক'টা।
ঘরের ভিতরে কোটি বিজলীর ছটা॥
কোন দিন পাইতেন চন্দনের বাস।
চন্দনের কাঠে যেন নির্মিত আবাস॥
কোন দিন দিব্য গন্ধ পাইতেন ঘরে।
যেন কত পদ্মবন ঘেরা চারিধারে॥