Prev | Up | Next

প্রথম খণ্ড - শ্রীপ্রভুর জন্মকথা

এ সময়ে চাটুয্যের আর্থিক সঙ্গতি।
দিন দিন যায় যত ততই উন্নতি॥
বিষয়-সম্বলে দ্বিজ অতিশয় কমি।
ভূসম্পত্তি মাত্র তাঁর সাতপোয়া জমি॥
'লক্ষ্মীজলা' জমিনের এই হয় নাম।
বর্ষায় ব্রাহ্মণ অগ্রে তিন গোছা ধান॥
স্বহস্তে ঈশানকোণে দিতেন পুঁতিয়া।
জয় জয় রঘুবীর ঠাকুর বলিয়া॥
এই অল্প ভূমিখণ্ডে যাহা কিছু ফলে।
বছরের গুজরান সেই ধানে চলে॥
আর এক ছিল তাঁর আয়ের উপায়।
ধনাঢ্য ব্রাহ্মণ যাঁরা জানিত তাঁহায়॥
শুদ্ধসত্ত্ব সদাচারী ধর্মপথে মন।
মাসে মাসে কিছু দিত ব্যয়ের কারণ॥
যে কোন ব্রাহ্মণে দিলে গ্রহণ না হ'ত।
বিশেষতঃ যে ব্রাহ্মণে শূদ্র যজাইত॥
ব্যয়ের নাহিক ত্রুটি অবস্থা যেমন।
যেন হোক দিনে রেতে খায় দশজন॥
দুটি দুটি খান অন্ন ঘরে রঘুবীর।
নিত্য নিত্য সমাগত অতিথি ফকির॥
প্রশস্ত পথের পাশে ব্রাহ্মণের ঘর।
যে পথে অতিথি নাগা চলে নিরন্তর॥
সে পথে পুরুষোত্তমে যাত্রিগণ চলে।
উঠে ব্রাহ্মণের ঘরে ক্ষুধা তৃষ্ণা পেলে॥
বড়ই দয়ার্দ্রচিত্ত গরীব ব্রাহ্মণ।
সামান্য মাটির ঘর খড়-আচ্ছাদন॥
তাও অতি ছোট ছোট নহে পরিসর।
সংখ্যায় অনেক নয় তিনখানি ঘর॥
তার মধ্যে একখানি ঢেঁকিশালা তাঁর।
এখন যেখানে আছে ধানের হামার॥
ভিটার ছপ্পর তাঁর বাহ্য দরশন।
দেখিলেই মনে হয় দীন-নিকেতন॥
তথাপিহ হেন ভাব ভবন-উপরে।
দেখামাত্র দর্শকের মন প্রাণ হরে॥
চারি ধারে বৃক্ষলতা অতি মনোরম।
যেন মহা তপঃপর ঋষির আশ্রম॥
শুদ্ধসত্ত্বভাবময় শান্তিকর স্থান।
ক্ষুধাতৃষ্ণাবারি দয়া সদা বিদ্যমান॥
তৃষা দূর করিবারে পথিকনিচয়।
উপনীত হলে পরে ব্রাহ্মণ-আলয়॥
অতি আনন্দিত তেঁহ মহা সমাদরে।
না খাইয়ে শাক-অন্ন নাহি দেন ছেড়ে॥
আর্থিক উন্নতি এই অন্যে অন্ন-দান।
কোথা হতে জুটে ঘরে না জানে সন্ধান॥
প্রভু পুত্র যার তার অভাব কিসের।
লক্ষ্মী ঘরে আড়িধরা ভাণ্ডারী কুবের॥

Prev | Up | Next


Go to top