Prev | Up | Next

প্রথম খণ্ড - শ্রীপ্রভুর জন্মকথা

পিতা মাতা প্রতিবাসী বুঝিতে না পারে।
শিশুরূপী ভগবান কত খেলা করে॥
একদিন আইঠাকুরানী লয়ে ছেলে।
সূর্য-তাপ দেন গায় শোয়াইয়া কোলে॥
বিশ্বম্ভর-আবেশ হইল শিশু-গায়।
কোলে ছেলে বড় ভারী আই টের পায়॥
অসহ্য দেখিয়া থোন কুলার উপরে।
সশয্যা সে কুলাখান চড়চড় করে॥
কি হোল কি হোল বলি করেন রোদন।
নিশ্চল সুস্থির শিশু বিহীন-স্পন্দন॥
কুলা হ'তে পুনঃ কোলে লইবার তরে।
বার বার ঠাকুরানী কত চেষ্টা করে॥
কোন মতে উঠাইতে না পারে বাছনি।
তখন ব্যাকুলপ্রাণে কাঁদেন জননী॥
শুনিয়া রোদন-ধ্বনি যে যথায় ছিল।
সন্নিধানে ত্বরান্বিত আসিয়া জুটিল॥
আইঠাকুরানী কন ছেলে কেন ভারী।
কুলা হ'তে কোলে আর উঠাতে না পারি॥
অদূরে নিম্বের এক বড় বৃক্ষ আছে।
তায় বাসা ব্রহ্মদৈত্য শিশুরে ধরেছে॥
মনে এই অনুমান করি লোকজন।
ভুতুড়িয়া আনিবারে পাঠায় তখন॥
কাঁদুনি গাহিয়া মন্ত্র ভুতুড়িয়া বলে।
হালকা হইল শিশু উঠাইল কোলে॥
আরদিন ছেলে রাখি গৃহকাজে যান।
শয্যা-সন্নিকটে এক আছিল উনান॥
আগুন না ছিল তায় ছিল মাত্র পাঁশ।
তখন ছেলের বয়ঃ দুই-তিন মাস॥
বিছানা হইতে ছেলে গিয়াছেন সরে।
অর্ধেক উনানমধ্যে অর্ধেক বাহিরে॥
সুকান্তি শিশুর গায় চাঁদ হারে দেখে।
লুটালুটি যায় ভূঁয়ে ধুলা ছাই মেখে॥
ছুটাছুটি আসে আই দেখিয়া ব্যাপার।
পরাণ-পুতুলি যথা লুটায় তাঁহার॥
অতি চীৎকার করি উঠাইয়া কোলে।
বলেন কি হেতু দেখি দীর্ঘকায় ছেলে॥
এই শোয়াইয়া গেছি বিছানা-উপর।
কে বল ফেলিল লয়ে উনান-ভিতর॥
কেমনে হইল ছেলে দীর্ঘতর কায়।
এই ছোট দেখে রেখে গেছি বিছানায়॥
এতেক কহিয়া যবে কাঁদেন জননী।
শুনি ধেয়ে উতরিল ধনী কামারিনী॥
গরজিয়া কামারিনী বলিল বচন।
মা হইয়া অমঙ্গল কহ কি কারণ॥
দাও দাও ছেলে মোরে গা ঝাড়িয়া দিব।
যদি কিছু হ'য়ে থাকে মন্তরে মারিব॥
এত বলি লয়ে করে মন্ত্র-উচ্চারণ।
তখনি হইল ছেলে পূর্বের মতন॥
কেবা ধনী কামারিনী নন্দরানী-প্রায়।
অদ্ভুত রমণী দেখি প্রভুর লীলায়॥
শিশুরূপী ভগবান চাটুয্যে-ভবনে।
আরম্ভ করিলা খেলা যেন আসে মনে॥
বিচিত্র প্রভুর খেলা অবোধ্য আভাস।
পিতা মাতা প্রতিবাসী সবার তরাস॥
দিনে দিনে তিন-চারি মাস হৈল গত।
ঘটনা ঘটিল এক অতি অদ্ভুত॥
সংসারের কার্যে আই যান গৃহান্তরে।
পঞ্চম মাসের শিশু শোয়াইয়া ঘরে॥
ফিরে আসি দেখে আই নিজ ছেলে নাই।
মশারিপ্রমাণ আরজন তাঁর ঠাঁই॥
উচ্চৈঃস্বরে ডাকে আই পতিরে সম্ভাষি।
বিছানায় ছেলে নাই দেখনা গো আসি॥
এ কেবা রয়েছে শুয়ে অতি দীর্ঘকায়।
দেখ কে লইল বল আমার বাছায়॥
ব্রাহ্মণ ভয়ার্ত হয়ে যান ত্বরান্বিতে।
প্রবেশিলা সেই ঘরে ভার্যার সহিতে॥
দেখেন শুইয়া খেলে আপন বাছনি।
তুলে কোলে দেন মাই আইঠাকুরানী॥
বিস্ময়া ভার্যায় দেখি দ্বিজবর ক'ন।
যা দেখেছ সত্য, আছে তাহার কারণ॥
কদাচ এসব কথা না কবে কাহারে।
অসম্ভব এসব সম্ভব নহে নরে॥
শাবাশ মায়ার খেলা যাই বলিহারি।
হৃদয়ে উদয় যাহা বর্ণিতে না পারি॥
ঐশ্বর্য ভুলিয়া গেল ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী।
সস্নেহে দেখেন বারবার মুখখানি॥
ঘন ঘন দেন চুম্ব বদন-কমলে।
নয়নের ধারা ব'য়ে পড়ে বক্ষঃস্থলে॥

Prev | Up | Next


Go to top